স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুরের বিভিন্ন জলাশয় থেকে শাপলা যেন নাম লিখিয়েছে বিলুপ্তির খাতায়। চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন গ্রাম-বাংলার বিলে-ঝিলে ও ডোবা-নালায় শাপলা ফুলের সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়ের নিচু জমিতে এমনিতেই জন্মাত প্রচুর শাপলা-শালুক । রঙ-বেরঙের শাপলার বাহারি রূপ দেখে মুগ্ধ হতো সব বয়সের মানুষ। শাপলা ভরা বিলের সৌন্দর্যে চোখের পলক ফেলা ছিল দায়।
এক সময় চাঁদপুরের খালে-বিল ও বদ্ধজলাশয় বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা দেখা যেত। শাপলা ফুল বাংলার সাংস্কৃতিতে এক অনন্য রূপ। বর্ষার শুরুতে বিভিন্ন স্থানে শাপলার বাহারি রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। সকালে বা চাঁদনি রাতে বিল, ঝিল বা জলাশয়ে ফুলটি যখন অনেক ফুটে থাকে, তখন সেখানে এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়াও আবহমান কাল থেকে মানুষের খাদ্য তালিকায় সবজি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল শাপলা। সহজলভ্য হওয়ায় শাপলা তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত স্থানীয় অনেকে।
বর্তমান সময়ে বাড়তি জনগণের চাপের কারণে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে বিলের পরিমাণ কমে গেছে। যার কারণে কমে গেছে শাপলা জন্মানোর স্থানও। বিভিন্ন বিলে অতিরিক্ত খনন, কৃষিজমিতে স্থাপনা নির্মাণ, জমিতে অতি মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফলে শাপলা আজ বিলুপ্তির পথে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে জাতীয় ফুল শাপলা কেবল ছবিই হয়ে থাকবে।




