স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের (ভিজিএফ) চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে।
সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বহরিয়া বাজার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকায় ৩ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড জেলেদের চাল বিতরণকালে এই ঘটনা ঘটেছে।আহতরা হলো– বহরিয়া এলাকার আক্কাস খাঁন, সুফিয়ান, আফজাল খান, বোরহান, রাব্বি গাজী, মুকসুদ মিজি, মহসীন মিজি, জায়েদ মিজি, মমিন হাওলাদার ও মন্টু মিজি। আহতরা সবাই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত রাব্বীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছে।
ওই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি মুকসুদ মিজি বলেন, গতকাল থেকেই জেলেদের চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরু ভুঁইয়া আজ ৭ নং ওয়ার্ডের লোকদের আসতে নিষেধ করেন। যার কারণে কেউ আসেনি। কিন্তু দুরে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা গেছে নুরু ভুঁইয়ার লোকজন যাদের কোন জেলে কার্ড নেই তারা চালের বস্তা নিয়ে যাচ্ছে। তখন এই কাজে বাঁধা দিলে মারামারি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৩ ও ৯ নং ওয়ার্ডের জেলেদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরু ভূঁইয়া অনুসারী আক্কাস খাঁন, সুফিয়ান, আফজাল খাঁন, বোরহান, রাব্বি এবং অপর পক্ষে ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি সুমন আহমেদ ভূঁইয়া, তার অনুসারী আলমগীর মিজি, মুকছুদ মিজি, শাকিল, কাউসারসহ ১০ থেকে ১৫জন জেলেদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণের সময় কিছু জেলে কার্ড ব্যতিত চাল নিতে চাইলে উভয়-পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে কার্ডধারী ও কার্ড ব্যতিত জেলেরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র এবং টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে।
ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নুরু ভুঁইয়া বলেন, আমরা গতকালও উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেছি। তখন ৭ নং ওয়ার্ড এর কয়েকজন চাল বিতরণের সময় সমস্যা তৈরী করেছে। তাদেরকে আজকে আসতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারাই আজকে এখানে হামলা ও মারামারি সৃষ্টি করেছে। জেলে কার্ড ছাড়া চাল নিয়ে যাওয়া সহ আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে এগুলো সঠিক না।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে রাব্বি নামে একজনের মাথায় টেঁটাবিদ্ধ থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। একজন এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। সদর উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা ও লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন বলেন, চাল বিতরণকালে আমি পরিষদের দ্বিতীয় তলায় ছিলাম। এসময় পরিষদের বাহিরে মারামারি শুরু হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের মেইন গেট বন্ধ করে দেই। এরপর চাল দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে কি নিয়ে বাহিরে মারামারি হয়েছে, তা আমি জানি না। বর্তমানে ইউনিয়নে চাল দেয়া বন্ধ রয়েছে। এদিকে সংর্ঘষের সময় গেট বন্ধ হওয়ার কারণে চাল নিতে আসা কিছু লোক পরিষদের ভিতরে আটকা পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসলে পুলিশ তাদেরকে পরিষদ থেকে বের হয়ে যেতে সহায়তা করে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো: বাহার মিয়া বলেন, ঘটনার পর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। ঘটনার সময় বহরিয়ার লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় দু’পক্ষের লোকজন কাঁচের বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এসময় পুলিশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।




