চাঁদপুরের গুরুত্বপূর্ণ বাবুরহাট এলাকায় যানজট নিরসন ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২৮ মিটার ব্যাসের একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ), চাঁদপুর। একই সঙ্গে গোলচত্বরকে কেন্দ্র করে তিনদিকে প্রায় ১৫০ মিটার করে চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যস্ততম বাবুরহাট এলাকায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি রুটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর শহর থেকে বাবুরহাট হয়ে মতলব ও পেন্নাই অভিমুখী সড়কটি আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই রুটটি চাঁদপুর থেকে ঢাকামুখী সড়ক যোগাযোগের একটি বিকল্প পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাবুরহাটের নির্দিষ্ট অংশে গোলচত্বর নির্মাণের পাশাপাশি এর তিনদিকে ১৫০ মিটার করে চার লেনের সড়ক তৈরি করা হবে। এতে বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদে ঘুরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে বাজারকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ, যত্রতত্র পার্কিং ও অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান জানান, বাবুরহাটে ২৮ মিটার ব্যাসের গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যানবাহন চলাচল সহজ হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাবুরহাটে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে যে জায়গা উন্মুক্ত হয়েছে, সেগুলো এ পরিকল্পনায় প্রয়োজন হবে। তিন দিক দিয়ে ১৫০ মিটার করে চার লেনের সড়ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাবুরহাট এলাকায় সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। ২০২৫ সালে সড়কের পাশের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, এসব স্থাপনার কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক ও বাবুরহাট-মতলব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছিল। ২০২৬ সালেও বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উচ্ছেদের মাধ্যমে সড়কের পাশে উন্মুক্ত হওয়া জায়গা ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ, গোলচত্বর এবং চার লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হবে।
চাঁদপুর থেকে বাবুরহাট-মতলব হয়ে দাউদকান্দির দিকে যাতায়াতের সড়কটির গুরুত্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাবুরহাট থেকে মতলব বেড়িবাঁধ সড়ক হয়ে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৪১ কিলোমিটার সড়ক ১০ দশমিক ৩০ মিটার বা ৩৪ ফুট প্রশস্ততায় দুই লেনে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হতে পারে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমানোর বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: Chandpur Kantha




