ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): ভারতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশটির প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও ইরিটেটিং (অস্বস্তিকর) বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে ভারত সরকারের উচিত দেশটিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে শেখ হাসিনার আর আপিল করার সুযোগ নেই। তাকে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা কার্যকর করাই সরকারের লক্ষ্য।
সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সংকেত প্রত্যাশা করে তিনি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে; এর পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা বৈষম্য সৃষ্টির বিষয় নেই।
নতুন বোয়িং বিমান কেনার অর্থ এককালীন পরিশোধ করতে হচ্ছে না জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময় ধরে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এয়ারবাস’ থেকেও বিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘসূত্রিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেড় বছর সময় পাওয়া সত্ত্বেও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ কারণে বর্তমান সরকারকে জনগণের সাময়িক সংকট কমাতে চীনের সঙ্গে চুক্তিসহ দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। তবে দেশে বর্তমানে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ খাদ্য মজুদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




