30.2 C
Bangladesh
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম

অপতথ্য ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রী, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের ঘিরে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। বিভিন্ন ভিডিওকে নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা, ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি, মনগড়া বক্তব্য প্রচার এবং সম্পাদিত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। বিএনপি ও সরকারের দাবি, রাজনৈতিকভাবে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হওয়ায় এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনে ৪৬৪টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার। এর মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ ছিল নেতিবাচক। সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে। মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের নিয়েও ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রিউমার স্ক্যানারের তথ্যে বলা হয়েছে, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ১৫৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে ২৬টি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ঘিরে ৪৮টি এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে ৩৩টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে ঘিরে ২৩টি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে ১৬টি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ঘিরে ১৫টি এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস ও তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে ১৪টি করে অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। রিউমার স্ক্যানারের তথ্যমতে, ফজলুর রহমানকে ঘিরে ১৬টি, লুৎফুজ্জামান বাবরকে ঘিরে পাঁচটি, মানসুরা আলমকে ঘিরে তিনটি এবং বরকতউল্লা বুলু, মনিরুল হক চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও নিলোফার চৌধুরী মনিকে ঘিরে দুটি করে অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিভিন্ন দেশে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে চাপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরোনো ভিডিও, অন্য দেশের দৃশ্য ও সম্পাদিত ছবি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি হিসেবে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাত আবদুল্লাহ নামের এক ছাত্রের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে সমালোচনার নামে মিথ্যা বা যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রীও বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অপতথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সতর্ক থাকার কথা বলেছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার দাবি, নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার হতাশা থেকেও অনেকে এমন প্রচারণায় যুক্ত হচ্ছেন। ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি; তাই ঋণখেলাপির অভিযোগকে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপতথ্য মোকাবিলায় দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ, সরকারি সংস্থাগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোকেও যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সচেতন করতে হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ