30.2 C
Bangladesh
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম

বগুড়ায় বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ, নাজিম পাঁচ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক: ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বগুড়ায় বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে নাজিম উদ্দিন ও মো. স্বপনের বিরুদ্ধে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মস্থলে ডেকে এনে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) পান করানো হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হলে লাশ বস্তায় ভরে ধানখেতে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে নাজিম তাঁর মোবাইলফোনে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খুঁজেছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম নাকি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনি ও স্বপন জড়িত।

পুলিশ জানায়, গত ৭ আগস্ট ওয়াহেদকে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নাজিম ও স্বপন ছিলেন। একপর্যায়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হলে রাতে লাশ বস্তায় ভরে ওই এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে নাজিম ও স্বপন কর্মস্থল থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহেদ বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে তাঁর বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল। কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে ওই সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। সেখান থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। পরে টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত ১২ আগস্ট বগুড়া শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওয়াহেদের স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন।

নিহতের মোবাইল ফোনের কল ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর ওয়াহেদের ভাই সোহেল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাজিমকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, নাজিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপর আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ