ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত ও এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ সময়ে সাধারণত ডেঙ্গুর পিক টাইম আসে। প্রতিরোধ জোরদার না করলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে যুক্ত করে দু-এক দিনের মধ্যে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শুরু করার কথা জানান তিনি। ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে কর্মীদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পুলিশিং বা শাস্তির চেয়ে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি শুধু নজরদারি করে নির্মূল করা যায় না; সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্যকর্মীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কোনো শয্যাসংকট নেই। সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সোমবার সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে জুম বৈঠক করে অতিরিক্ত বেড প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও টেস্ট কিট মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
মৃত্যুর হার কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গুর স্ট্যান্ডার্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে সংক্রমণ ঠেকাতে পর্যাপ্ত মশারি বিতরণ এবং আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মশক নিধনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস ধরে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। আতঙ্কিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)




