ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও উপাধ্যক্ষ। তিনি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি এ মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যুক্ত। অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছেন তিনি। ভবিষ্যতে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্বমানের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন তিনি।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার অলিপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া ডা. হারুন-অর-রশিদ স্কুলজীবন থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন। মানুষের চিকিৎসাবঞ্চনা ও দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয় তার। নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর বুয়েট, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও তিনি চিকিৎসা পেশাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন।
অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চ্যালেঞ্জ
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি অস্থায়ী ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং মৌলিক বিষয়ের শিক্ষকের ঘাটতির কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় পিডব্লিউডির মাধ্যমে নতুন স্থাপনা তৈরি, খালি আবাসিক কোয়ার্টার ছাত্রী হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার, বর্ধিত একাডেমিক ভবন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষক সংকটও অনেকটা কমানো সম্ভব হয়েছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি
ডা. হারুন-অর-রশিদ জানান, ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের পর স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভূমিমালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি বুঝে নেওয়ার পর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর পর তিন বছরের মধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম ও হাসপাতালের সেবা নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের আশা করছেন তিনি।
স্থান সংকটের কারণে শুরুতে ল্যাবরেটরি সুবিধায় ঘাটতি থাকলেও অতিরিক্ত স্থাপনা যুক্ত করে ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের সুবিধা পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণা
শিক্ষক সমিতি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে বলে জানান তিনি। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ ও সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজের বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র চিকিৎসকেরা একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরাও সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন। ফলে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকাসহ বড় শহরে যেতে আগের তুলনায় কম হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গবেষণার জন্য কলেজে একটি ‘রিসার্চ সেল’ রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিজ্ঞান মেলা ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেলের অধীনে একাধিক গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য
ডা. হারুন-অর-রশিদ বলেন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ তার কাছে দায়িত্বের পাশাপাশি আবেগের জায়গা। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে কলেজ ও হাসপাতালকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা রয়েছে তার।




