অনলাইন ডেস্ক: ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কিংবা ‘গাড়ি চলে না’—বাংলা লোকসংগীতের অসংখ্য কালজয়ী গানের সুরকার ও রচয়িতা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। আজ ১২ সেপ্টেম্বর তার প্রয়াণ দিবস। বাংলা লোকসংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই সাধক আমাদের মাঝে না থাকলেও তার সুর ও কথা কোটি ভক্তের হৃদয়ে আজও জড়িয়ে আছে।
অসংখ্য প্রেমের গানের এই শিল্পী এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেমের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘আমার প্রেমে।’ সাক্ষাৎকারটি তিনি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় দিয়েছিলেন।
তার জীবদ্দশাতেই ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’ ও ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’-এর মতো গানের বহু রিমিক্স ও নতুন সংস্করণ তৈরি হয়। তরুণ শিল্পীদের এসব পুনর্নির্মাণ নিয়ে শাহ আব্দুল করিমের ক্ষোভ বা আপত্তি ছিল না। নতুনরা তার গান কেমন গাইছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার থেইকা খারাপও গাইছে, আমার থেইকা ভালোও গাইছে। যে যেভাবে পারার ওসেভাবে গাইছে।’
গান-বাজনার বর্তমান অবস্থা ভালো দিকে যাচ্ছে বলে মনে করতেন তিনি। তবে গায়কীতে শুদ্ধতা বজায় রাখার বিষয়ে নতুনদের সতর্ক করতেন। কেউ ভুল গাইলে ডেকে বলতেন, ‘ইডা তো তোমার অইছে না বা।’ গান শুদ্ধ করে গাওয়ার পরামর্শ দিতেন ভালোবাসার সঙ্গে। কেউ পরামর্শ না শুনলেও তা নিয়ে আক্ষেপ করতেন না।
জীবন ও সংগীতসাধনা
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন আসাম প্রদেশের সিলেট জেলার দিরাইতে জন্ম নেন শাহ আব্দুল করিম। তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত সংগীতসাধক। বাউল শাহ ইব্রাহিম মাস্তান বকশ ও সাধক রশীদ উদ্দীনের কাছ থেকে সংগীতের দীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শনে অনুপ্রাণিত হন।
ভাটি অঞ্চলের দারিদ্র্য ও কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি পাঁচ শতাধিক গান রচনা করেন। শরিয়তি, মারফতি, দেহতত্ত্ব ও গণসংগীতের মাধ্যমে মানুষের প্রেম-ভালোবাসার কথা বলার পাশাপাশি কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। প্রয়াণ দিবসে সংগীতপ্রেমীরা তার উদার সুরসাধনা ও মুক্তচিন্তার দর্শনকে স্মরণ করছেন।




