নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন মনা (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন নিহত মনির হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম। ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি আমজাদ হোসেনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ৩০ নভেম্বর ও ২৫ ডিসেম্বর পৃথক দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথম হামলা ঘটে হরিপুর মধ্যপাড়ায় আবদুল হান্নানের চায়ের দোকানের সামনে এবং দ্বিতীয় হামলা মনির হোসেনের নিজ বাড়িতে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। এতে মনির হোসেনসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। মনির হোসেনের মাথায় ১৯টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া হামলাকারীরা স্থানীয় দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম জানান,তার স্বামীর ভাগিনার সঙ্গে বিবাদীদের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ থেকে এই হামলার সূত্রপাত। প্রথম দফায় কিল-ঘুষি মারার পর,দ্বিতীয় দফায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়।
হামলায় আহতরা কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা,হাত ও পায়ে গভীর ক্ষত রয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মিন্টু দত্ত জানান,মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবার প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বলেছেন,আমরা আমাদের স্বামী ও বাবার হত্যার সঠিক বিচার চাই। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আমরা আরও ক্ষতির শিকার হতে পারি।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।




