26.1 C
Bangladesh
মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬
spot_imgspot_img

শেখ হাসিনার যে দায়, হাসানুল হক ইনুরও একই দায়: চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক: শেখ হাসিনার যে দায়, হাসানুল হক ইনুরও একই দায়ে। তাই শেখ হাসিনার যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তবে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না কেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি আসামির বিরুদ্ধে যেসব তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য আছে, তা ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করতে। আমরা মনে করি, ট্রাইব্যুনাল আমাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তারা সঠিক রায় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

‘এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হয়েছে। শেখ হাসিনার যে দায়, হাসানুল হক ইনুরও একই দায়। তাই শেখ হাসিনার যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তবে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না।’

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের আটটি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে প্রসিকিউশনের তিনটি চার্জ (অভিযোগ) তথা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর বাকিগুলো প্রমাণিত হয়নি। প্রমাণিত তিনটি চার্জের প্রতি চার্জে ১০ বছর করে সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে ৬ ও ৭ নম্বর চার্জে এক লাখ করে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। তবে আমরা এ রায়ে মোটেই সন্তুষ্ট নই।’

আটটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনুর বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ হলো ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে হওয়া সিদ্ধান্তে একাত্মতা পোষণ করেছিলেন। অর্থাৎ ওই বৈঠকে কারফিউ জারির মধ্য দিয়ে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশনা এবং আন্দোলন দমনের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যতম শরিক নেতা হিসেবে ইনুও সেই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।’

এছাড়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি ট্যাগ’ দিয়েছিলেন তিনি। শেখ হাসিনার সঙ্গেও একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন। ফোনালাপে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সায় দেন জাসদ সভাপতি। ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার মধ্য দিয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসব অভিযোগ প্রমাণ করেছেন। অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তারা। এছাড়া সাফাই সাক্ষ্যে দেওয়া লিখিত বক্তব্যেও ইনু স্বীকার করেছিলেন। তার স্বীকারোক্তির পরও অন্যান্য চার্জ প্রমাণিত হবে না, এটা আমাদের কাছে বোধগম্য মনে হয়নি।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ইনুকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে ট্রাইব্যুনাল যে সাজা দিয়েছেন, এটা একেবারেই স্বেচ্ছামূলক। তারা যথাযথভাবে সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করব। একইসঙ্গে তিনটি চার্জে দেওয়া শাস্তিও অপ্রতুল। অতএব এ সাজা বাড়াতেও আমরা আপিল করব। রায়ের কপি পেলেই উচ্চ আদালতে যাব।’

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,800SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ