অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুর জেলাজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের লাইসেন্স নেই; আবার লাইসেন্স থাকলেও নির্ধারিত শর্তের ২০ শতাংশও বাস্তবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিপ্লোমাধারী অভিজ্ঞ নার্স, ডিগ্রিধারী প্যাথলজিস্ট ও ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকের উপস্থিতির ঘাটতির পাশাপাশি অব্যবস্থাপনায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাগজপত্র ও লাইসেন্সের ঘাটতি
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্স ও ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কিছু প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলার কথা বলা হয়েছে।
চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের সংকট
২৪ ঘণ্টা ডিউটি চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। জরুরি রোগীদের সামলাচ্ছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং অপেশাদার বা অপ্রশিক্ষিত কর্মীরা। প্যাথলজি বিভাগেও অভিজ্ঞ বা সনদপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ানের ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ভুল রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা।
শেয়ার বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ
লাইসেন্সহীনতা ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে শেয়ার বিক্রির নামে সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে লভ্যাংশ বা মূলধন ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ নিয়ে নিয়মিত সালিস ও দেন-দরবার হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি ও সময়ে সময়ে লোকদেখানো অভিযানের সুযোগে প্রভাবশালী চক্র পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে মানুষ আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চাঁদপুরের সচেতন নাগরিকরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত কঠোর মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভুয়া শেয়ার বিক্রির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও বিদ্যমান জনবল দিয়ে সক্ষমতা অনুযায়ী অভিযান চালানো হচ্ছে।




