অনলাইন ডেস্ক: শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর প্রকৃতির নতুন সাজ। বর্ষার রুক্ষতা কাটিয়ে এ সময় পাহাড়ি প্রকৃতি যেন ফিরে পায় তার নির্মল ও স্নিগ্ধ রূপ। নীল আকাশের নিচে সারি সারি সবুজ পাহাড়, পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা আর জুমের ক্ষেতের সবুজ-সোনালি আভা সব মিলিয়ে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদ হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।
প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে শরতে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তেরাং তৈকালাই ঝর্ণা, যা রিছাং ঝর্ণা নামেও পরিচিত। পাহাড়, ঝর্ণা, নীল আকাশ ও মেঘে ঘেরা এ স্থানটি শহরের কোলাহল থেকে দূরে সময় কাটানোর জন্য উপযোগী গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পাহাড়ের হৃদয় মেম্বার পাড়া এলাকায় পাহাড়ের বুক বেয়ে নেমে এসেছে ঝর্ণাটি। স্থানীয় ত্রিপুরা ভাষায় এর নাম তেরাং তৈ কালাই। পাথুরে ঢাল বেয়ে স্বচ্ছ পানির ধারা, ঝর্ণার কলকল শব্দ, সবুজ পাহাড় ও নির্মল বাতাস দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
শরতে ঝর্ণার চারপাশের পাহাড়ি সবুজের সঙ্গে জুমের ক্ষেতের সোনালি আভা যুক্ত হয়। পাহাড়ি সড়ক ধরে ঝর্ণার দিকে যাওয়ার পথেও নীল আকাশ, সাদা মেঘ, আঁকাবাঁকা রাস্তা ও সবুজ পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। মূল সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হয়।
ঝর্ণার স্বাভাবিক গতিপথে পাথুরে ঢালের কারণে পানির ওপর দিয়ে গড়িয়ে নামার মতো প্রাকৃতিক জলস্লাইড তৈরি হয়েছে। এতে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ে। তবে পাথরে শ্যাওলা থাকায় সেগুলো পিচ্ছিল হতে পারে। পানির স্রোত বেশি থাকলে পাথুরে ঢালে চলাচল ও পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৈরব থেকে আসা পর্যটক আফরোজা আক্তার লাভলি বলেন, তিনি প্রথমবার খাগড়াছড়ি এসে রিছাং ঝর্ণাকে অসম্ভব সুন্দর দেখেছেন। নরসিংদী থেকে আসা নাইম জানান, ঝর্ণায় যাওয়ার পথের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর এবং সেখানে গিয়ে তাঁর ভালো লেগেছে।
রিছাং ঝর্ণার কয়েকশ মিটার নিচে আরও একটি ঝর্ণা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি রিছাংয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ উঁচু। তবে দুর্গম জঙ্গল পেরিয়ে যেতে হওয়ায় অনেক পর্যটক সেখানে যেতে পারেন না। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, সিঁড়ি নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে এটি নতুন পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। নতুন কোনো স্পটে স্থানীয় জনসাধারণ ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।
তেরাং তৈকালাই বা রিছাং ঝর্ণা মাটিরাঙ্গা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। খাগড়াছড়ি-ঢাকা মহাসড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে ঝর্ণাটির অবস্থান। ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও জিপে প্রবেশপথ পর্যন্ত যাওয়া যায়। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের কাছাকাছি হওয়ায় একই ভ্রমণে আশপাশের অন্যান্য স্থানও দেখা সম্ভব।




