30.2 C
Bangladesh
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম

পলাশবাড়ীতে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় স্বামী কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মৃত স্ত্রী আল মায়িদা আক্তারকে (২০) হাসপাতালে ফেলে পালানোর ঘটনায় স্বামী সিয়াম আল মুরসালিন আকাশের (৩০) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সিয়ামকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই দিন নিহত মায়িদার মা রহিমা বেগম থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সিয়ামকে একমাত্র নামীয় আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও দুই থেকে তিনজনকে।

পুলিশ জানায়, সিয়াম পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের মৃত মাজহারুল ইসলাম সন্টুর ছেলে। নিহত মায়িদা সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের চাচা মাজেদুর রহমানের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেলে সিয়ামের বাড়িতে অন্য এক নারীকে নিয়ে মাদক সেবনে আপত্তি করায় মায়িদাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় মায়িদার চার বছর বয়সী ছেলে আয়াশ কাছে গেলে তাকে বিষয়টি ভিন্নভাবে বোঝানো হয় বলে দাবি করেন মাজেদুর।

নিহতের পরিবার, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে মায়িদাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন সিয়াম। বিয়ের পর থেকে তিনি স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। ঘটনার দুই-তিন দিন আগেও মায়িদাকে মারধর করা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।

হত্যার পর সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মায়িদাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে সিয়াম সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ মরদেহ থানায় নেয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে সিয়ামকে আটক করে পুলিশ।

ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, সিয়ামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, মরদেহের বিভিন্ন অংশে আগের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। গলায়ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ