অনলাইন ডেস্ক: কচুয়ায় স্বামীর মারধরের পর সালমা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মাহমুদুল হাসানকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি পরকীয়ার কারণে নয়, বরং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের জেরেই সালমার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার দেবীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালমা আক্তার একই উপজেলার কাদলা কারী সাহেবের বাড়ির মো. শাহ আলমের মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে উভয়ের পছন্দের ভিত্তিতে মাহমুদুল হাসান ও সালমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে সাইয়্যেদা নুর (৫) নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের বোন ফারজানা আলমের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে মাহমুদুল হাসান সালমাকে মারধরসহ শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ফারজানা আলমের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল হাসান সালমাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুক্রবার তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে সালমার মৃত্যু হয়। এরপর পুলিশ মাহমুদুল হাসানকে আটক করে এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার বিকেলে বাবার বাড়িতে শেষবারের মতো সালমাকে দেখতে স্বজন ও এলাকাবাসী জড়ো হন। পরে স্বজনদের কান্না ও আহাজারির মধ্য দিয়ে বাবার বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ফারজানা আলমের দাবি, সালমাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। নিহতের পরিবারের বক্তব্য, ঘটনাটিকে অন্য কোনো সম্পর্ক বা পরকীয়ার সঙ্গে যুক্ত না করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বের করা উচিত। তাঁদের অভিযোগ, নেশাজনিত কারণে মাহমুদুল হাসান প্রায়ই সালমার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও করা হয়েছে।




