31.2 C
Bangladesh
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম
#হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু#একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন#সাত মাসে সর্বোচ্চ মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার: মাহ্দী আমিন#আজ ফরিদগঞ্জে আসছেন বিশ্বজয়ী হাফেজ নাজমুস সাকিব#আমনের জমিতে আগাছা দমনে ব্যস্ত মতলব উত্তরের কৃষক#মতলব উত্তরে দুই অটোরিকশার সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ২#মাঠ ও উপকরণ সংকটে ওছমানিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চা ব্যাহত#মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা আটক, গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ#মতলব দক্ষিণে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দাফন সম্পন্ন, এমপির শোক#শাহরাস্তিতে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা

অনিয়মের অভিযোগ মতলব দক্ষিণ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে পদে পদে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, সময়মতো দলিলের নকল সরবরাহ না করা এবং একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সরকারি এ কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চলে আসায় তা অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের চিত্র পাওয়া গেছে। একাধিক দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কার্যালয়ের কিছু অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হয় বলে তাঁরা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, দলিল সম্পাদনের সময় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ‘ফিঙ্গারিং’ সম্পন্ন করতে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এই অর্থ সাব-রেজিস্ট্রারের খাস কামরায় নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই কক্ষের বাইরে আঙুলের কালি দিয়ে কালো হয়ে থাকা অংশ এর দৃশ্যমান প্রমাণ।

দলিলের নকল বা সার্টিফায়েড কপি নেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে নকল সরবরাহ করা হয় না।

সেবা প্রদানের পাশাপাশি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভুয়া দলিল সম্পাদন এবং সেই দলিল ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। মতলব দক্ষিণের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বড় অঙ্কের একটি দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারি রাজস্বের বাইরে তাঁর কাছে আরও ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আপত্তি জানান।

ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, দলিল করতে আসা ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে অতিরিক্ত অর্থের অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক্সট্রা মোহরার পদে কর্মরত সাহিদা আক্তার স্বপ্নাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাঁর সহযোগী হিসেবে অফিস সহায়ক মোহাম্মদ ইব্রাহীম ও নাসির হোসেনের নামও এসেছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন কাজে এই সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক্সট্রা মোহরার সাহিদা আক্তার স্বপ্না। বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমানের কাছে জানানো হলে তিনি বলেন, দলিল সম্পাদনের জন্য অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ সাহিদা তাঁর কাছে অস্বীকার করেছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমান বলেন, সরকারি দপ্তর নির্ধারিত নিয়মের মধ্যেই পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনিয়ম চলে এলে তা একজনের পক্ষে দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; পরিবর্তনে সময় প্রয়োজন।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাজ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা দেন। তাঁরা অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ