অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘদিন প্রবাসে জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে ব্যবসার পাশাপাশি নিজেকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার আব্দুর রহিম। নিজের সামর্থ্য ও প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে গৃদকালিন্দিয়া-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের পাশে তিনি গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘মানবতার দেয়াল’.
হাজী বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ছোট ঘরের মতো কাঠ ও টিনের কাঠামোয় সাজানো রয়েছে শিশু, কিশোর, পুরুষ ও নারীদের ব্যবহারের পোশাক, জুতা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সামর্থ্যবান ব্যক্তি কিংবা বাড়িতে অতিরিক্ত ব্যবহারযোগ্য পোশাক ও জুতা থাকা মানুষ এসব আব্দুর রহিমের কাছে দিয়ে যান। তিনি সেগুলো ‘মানবতার দেয়াল’-এ গুছিয়ে রাখেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে সামগ্রী নিয়ে ব্যবহার করেন।
প্রায় ষাট বছর বয়সী উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম জানান, ২০২৪ সালে তিনি প্রথম এই মানবতার ঘর স্থাপন করেন। শুরুতে তেমন সাড়া না পেলেও ধীরে ধীরে উদ্যোগটি পরিচিতি পায়। বর্তমানে অনেকে অতিরিক্ত পোশাক ও সামগ্রী এখানে পৌঁছে দিচ্ছেন। গত দুই বছরে অসংখ্য অসহায় মানুষ এখান থেকে বিনামূল্যে জামাকাপড় ও জুতা নিয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
আব্দুর রহিম বলেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দ আলাদা। অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোকে তিনি জীবনের বড় প্রাপ্তি মনে করেন। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
তবে স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় বর্ষা ও বৈরী আবহাওয়ায় সামগ্রীগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অথবা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি স্থায়ী ঘর নির্মাণে সহায়তা করলে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান আব্দুর রহিম। এতে পোশাকের পাশাপাশি অসহায়দের জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণও সহজ হবে।
এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলেছেন এলাকাবাসী। আমির উদ্দিন হাজীবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আনিসুর রহমানের মতে, প্রশাসন ও এলাকার বিত্তবানরা পাশে দাঁড়ালে ছোট উদ্যোগটি একসময় বড় মানবিক সেবাকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
স্থানীয়রা ‘মানবতার দেয়াল’ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এবং দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।




