সরেজমিনে দেখা যায়, নয়ারহাট বাজার থেকে চির্কা চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের দিকে যাওয়া সড়কের পাশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। একইভাবে চির্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনেও বাজারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে দুই স্থানে বড় ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ওই এলাকার পাশে রয়েছে চির্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলবেরুনী কেজি ফ্রি ক্যাডেট স্কুল এবং চির্কা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। প্রতিদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে যাতায়াত করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ী মাহিন সরকার এবং আব্দুল মালেক জানান, দীর্ঘদিন ধরে নয়ারহাট বাজারের ময়লা-আবর্জনা ওই এলাকায় ফেলা হচ্ছে। নিষেধ করা হলেও নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় ব্যবসায়ীরা সেখানে বর্জ্য ফেলছেন বলে জানান তারা।
চির্কা চাঁদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শামসুদ্দিন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ময়লা ফেলতে বহুবার নিষেধ করা হলেও তা বন্ধ হয়নি। নিজেদের লোক দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করানোর পরও আবার সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাজারের ইজারাদার ইমন গাজী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিত্যক্ত ভবনে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বাজারের ময়লা বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার জন্য স্থান নির্ধারণ করা গেলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে বাজারের ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুত নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সূত্র: দৈনিক আদি বাংলা




