32.7 C
Bangladesh
শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
spot_imgspot_img

মতলবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক: সরেজমিনে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ার প্রতি উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাইভেট পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া, প্রাইভেট না পড়লে অবহেলা ও অবমূল্যায়ন করা এবং পরীক্ষার খাতায় নম্বর প্রদানে বৈষম্য করার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কেউ কেউ।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন শিক্ষকের একেকটি প্রাইভেট ব্যাচে ২০ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী একসঙ্গে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৫০০, ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম বিভিন্ন অভিভাবক সমাবেশ ও মা সমাবেশে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ে আন্তরিকতা ও মনোযোগের সঙ্গে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরও কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মতলবের কৃতী সন্তান সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে প্রাইভেট পড়ানোর দিকে ঝুঁকে পড়লে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পতন শুরু হয়।

শিক্ষকদের সম্মানহানি না করে পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তাদের মনোভাব পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে আন্তরিকতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সম্প্রতি প্রশাসনের কিছুটা কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাদের অনেকে।

সচেতন মহলের মতে, কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে শিক্ষার মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। প্রাইভেট না পড়লে কোনো কোনো শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, এর ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা নীরবে ঝরে পড়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়নে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. জালাল উদ্দিন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমামসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।

কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কীভাবে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য চলছে এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অভিযোগ কী—এসব নিয়ে প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ