অনলাইন ডেস্ক: পাবনার সাঁথিয়ায় ছেলের কাছে আশ্রয় না পাওয়া মুন্নি খাতুন অবশেষে আদালতের মধ্যস্থতায় ছেলের ঘরে ফিরেছেন। একই সঙ্গে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও নিয়েছেন গ্রামপুলিশ ছেলে সাগর হোসেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুন্নি খাতুনের বয়স ৫০ বছর। তাঁকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি ছিলেন না পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সাগর হোসেন (৩০)। ছেলের কাছ থেকে আশ্রয় ও ভরণপোষণ পাওয়ার আশায় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন। স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হলেও স্থায়ী সুরাহা হয়নি। পরে ছেলের সঙ্গে থাকার আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মুন্নি খাতুন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ওই অভিযোগের শুনানি করেন সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ। তিনি মা ও ছেলের বক্তব্য শোনেন এবং মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাগরকে তাঁর দেখাশোনার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন।
তবে মাকে নিজের সঙ্গে না রাখার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন সাগর। এ সময় তিনি ইউএনওকে জানান, মাকে সঙ্গে রাখতে পারবেন না; বরং মাসে কত টাকা দেবেন তা জানাতে বলেন। ইউএনওর কার্যালয়ের এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টি পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আসে। পরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ওসিকে মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
ওসি আনিসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে তাঁদের বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। বক্তব্য শোনার পর বিচারক দুজনের সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতা করেন। এতে সাগর মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি মাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলে জানান।
মুন্নি খাতুন বলেন, ছেলে ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে ঘরে তুলে নিয়েছেন—এতে তিনি খুশি। সাগর হোসেন জানান, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং বাকি জীবন মাকে সঙ্গে নিয়ে থাকতে চান।




