অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনভাবে বাঁচার আশা নিয়ে কুমিল্লার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বাড়ি ছেড়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত সোমবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ঢাকায় বাসা ভাড়া না পেয়ে তারা হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চলে যায়। পরে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালকের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার বলেন, সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর চার শিক্ষার্থীর কেউ বিদ্যালয়ে যায়নি। বিষয়টি জানার পর পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন থানায় তাদের ছবি ও পরিচয় পাঠানোর পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহায়তায় সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মুঠোফোন ব্যবহার করত। টিকটকে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। ওই তরুণদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে তারা বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তরুণদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল না।
চার শিক্ষার্থী প্রথমে ঢাকায় যায় এবং সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তাদের একজনের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। রাতে ঠিকানা খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির সময় এক অটোরিকশাচালকের সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ি ছাড়ার আগে শিক্ষার্থীরা পরিবারের মূল্যবান জিনিসপত্র সঙ্গে নেয়। তাদের একজন পরিবারের অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন কুমিল্লার টাউন হল মার্কেটের একটি দোকানে চার হাজার টাকায় বিক্রি করে। পরে পুলিশ ফোনটি উদ্ধার করে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




