অনলাইন ডেস্ক: বাবুরহাট-মতলব-ঢাকা রুটে জৈনপুর এক্সপ্রেস, জৈনপুর পরিবহন ও মতলব এক্সপ্রেস নামের বাসগুলোর বেপরোয়া চলাচল জননিরাপত্তার জন্য ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এ রুটে ফিটনেসবিহীন বাস, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি এবং সড়ক আইন অমান্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রায়ই দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হওয়া, যাত্রী ও পথচারীদের ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটলেও এসবের স্থায়ী প্রতিকার হয়নি।
সর্বশেষ জৈনপুর এক্সপ্রেসের ধাক্কায় এনসিপি নেত্রী ইসরাত জাহান বিন্দুর বাবা-মা আহত হওয়ার ঘটনা মতলবের সড়ক নিরাপত্তার নাজুক পরিস্থিতি সামনে এনেছে। এতে বড় ধরনের প্রাণহানি না হলেও নিয়মিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, জৈনপুর এক্সপ্রেসের পাশাপাশি জৈনপুর পরিবহন ও মতলব এক্সপ্রেসের ফিটনেস, চালকের দক্ষতা এবং চলাচলের ধরন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরিবহন মালিকদের রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির ও সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগের কারণে নিয়ম প্রয়োগে শিথিলতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
সড়ক নিরাপত্তায় রাজনৈতিক পরিচয় বা মালিকদের প্রভাব বিবেচনার সুযোগ নেই। ফিটনেসবিহীন বাস শনাক্ত, চালকের বৈধ লাইসেন্স ও পেশাগত যোগ্যতা যাচাই, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
সমন্বিত তদারকির দাবি
জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাসগুলোর কাগজপত্র, ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা ও চলাচলের ধরন নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহি এবং যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মতলবের মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।




