31.2 C
Bangladesh
শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম
#দুর্গোৎসব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস ড. জালাল এমপির#চাঁদপুরে ৩ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ, দুই জেলের কারাদণ্ড#গুজব ও অপতথ্যের সবচেয়ে বড় শিকার প্রধানমন্ত্রী: প্রেস সচিব#গাজীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম কবিরাজের গণসংযোগ#শাহমাহমুদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হৃদয় কাজী গ্রেপ্তার#ফরিদগঞ্জে মারধর, চুরির অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের চারজন নেতাকর্মী গ্রেফতার#ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে চার বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা#লক্ষ্মীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছির খানের সমাবেশ#শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু#কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ

বাবার শেষ কথা: অশ্রুর ভাষণে ফিরে আসা এক অমলিন স্মৃতি

অনলাইন ডেস্ক: কিছু কথা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়, কিছু কথা বাতাসে মিলিয়ে যায়। তবে প্রিয়জনের শেষ বাণী এমন এক স্মৃতি, যা একবার কানে প্রবেশ করলে হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী হয়ে থাকে। মৃত্যুর সীমানা পেরিয়েও সেই বাণী সন্তানের জীবনকে নীরবে পরিচালিত করে—সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের জীবনে তাঁর বাবার শেষ কথাটি তেমনই এক অমলিন স্মৃতি।

ক্যামেরার সামনে বাবার প্রসঙ্গ উঠলে চশমা খুলে চোখ মুছছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছালেও বাবার কথা বলতে গিয়ে তাঁর মধ্যে একজন আবেগপ্রবণ সন্তানের অনুভূতি প্রকাশ পায়।

১৯৯২ সালে মৃত্যুর আগে তাঁর বাবা বলে গিয়েছিলেন, “তোমার ভাইবোনদের দেখে রেখো।” সংক্ষিপ্ত এই কথাটি সময়ের সঙ্গে তাঁর কাছে দায়িত্ব, স্মৃতি ও পিতার আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাবা চেয়েছিলেন, ছেলে সুশিক্ষিত হয়ে শিক্ষকতা বা চাকরি করে সাধারণ ও সৎ জীবনযাপন করুক। চাঁদপুরের হাটেরনল স্কুলের সেই ছাত্র অবশ্য রাজনীতির পথে এগিয়ে যান। কারাবরণ, আত্মগোপন, মামলা ও নানা সংগ্রাম পেরিয়ে তিনি জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি হন।

সাক্ষাৎকারে তাঁকে জানতে চাওয়া হয়, বাবা যে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি তা হতে পেরেছেন কি না। জবাবে চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, “দেখতে পারেন।” প্রতিক্রিয়াটিতে রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে পিতার প্রতি তাঁর আবেগ ও আত্মজিজ্ঞাসাই বেশি ফুটে ওঠে।

১৭ বছরের সংগ্রাম, পুলিশের তাড়া, আতঙ্কে কাটানো রাত ও কারাজীবনের কারণে শৈশবের অনেক স্মৃতি তাঁর মনে নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বাবার শেষ কথাটি তাঁর জীবন থেকে মুছে যায়নি; বরং তা নৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

শৈশবে বাবা-মায়ের কঠোর শাসনের কথাও তিনি স্মরণ করেন। স্কুল শেষে সরাসরি বাড়ি ফিরতে হতো; আড্ডা বা অলস ঘোরাঘুরির সুযোগ ছিল না। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি তরুণদের শিক্ষা শেষ না করে অলসভাবে ঘুরে না বেড়ানোর পরামর্শ দেন।

১৯৭৮ সালে বন্যাপীড়িত চাঁদপুরে জিয়াউর রহমানের আগমন তাঁর রাজনৈতিক চেতনায় প্রভাব ফেলে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কারাজীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থার কথাও এতে উঠে এসেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে সালাত আদায়ে অবহেলার বিষয়টি তিনি আফসোস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাবার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আকুতিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। বাবা জীবিত না থাকায় সেই ক্ষমাপ্রার্থনা তাঁর কাছে দোয়া ও মুনাজাতের ভাষায় প্রকাশ পায়।

জীবিত অবস্থায় বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মৃত্যুর পর বড় আয়োজনের চেয়ে জীবিত সময়ে তাঁদের পাশে বসা, কুশল জিজ্ঞেস করা ও যত্ন নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ—লেখাটির মূল বক্তব্যে এই উপলব্ধি তুলে ধরা হয়েছে।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে বাবার শেষ কথা তাঁর জীবনের নৈতিক দিকনির্দেশনা হয়ে আছে। মানুষ চলে গেলেও পিতার স্নেহ, ভালোবাসা ও শেষ উপদেশ সন্তানের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ