অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় অপ্রাপ্ত বয়সী প্রেমিক-প্রেমিকার পছন্দের বিয়েকে কেন্দ্র করে মামলা, গ্রেফতার ও কারাবাসের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকার মায়ের দায়ের করা মামলায় প্রেমিকের ভগ্নীপতি ১৯ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হলেও প্রায় দেড় মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন প্রেমিক সাফিন (১৮)। এ ঘটনায় দুই পরিবারের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা চলছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কচুয়ার গুতপুর গ্রামের ইউসুফ মৃধার ছেলে সাফিনের সঙ্গে টেলি ফকির বাড়ির বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী বিল্লাল হোসেনের মেয়ে জাকিয়া আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত ১৯ জুন নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে তারা বিয়ে করেন বলে পরিবারের দাবি। বিয়ের পর তারা প্রায় তিন মাস একসঙ্গে সংসার করেন।
জাকিয়ার মা শাকিলা বেগম বিষয়টি মেনে না নিয়ে সাফিনসহ চারজনকে আসামি করে চাঁদপুরের আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৮৮/২৬। মামলার পর কচুয়া থানার এসআই খ. ম. শাজাহান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে সাফিনের ভগ্নীপতি জাকির হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করেন। আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর পর ১৯ দিন কারাভোগ করে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
একই মামলায় গত ২০ আগস্ট রাতে গুতপুর গ্রামের বাড়ি থেকে সাফিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, গ্রেফতারের পর থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সাফিনের পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের বিয়ে মেনে না নিয়ে শাকিলা বেগম মামলা করে সাফিন ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছেন। তাদের দাবি, সাফিন ও জাকিয়া নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেছেন এবং বিয়ের পর একসঙ্গে সংসার করছিলেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, জাকিয়ার মা তার ছোট মেয়ে নাবালিকা সাবিকুন্নাহারের বাল্যবিয়ের ঘটনা মেনে নিলেও বড় মেয়ে জাকিয়ার বিয়েকে কেন্দ্র করে মামলা করে সাফিনের পরিবারকে হয়রানি করছেন। তবে শাকিলা বেগম বলেন, উপযুক্ত কাবিন না দেওয়ায় তিনি মামলা করেছেন। ছেলের পক্ষ চাইলে বিষয়টি সমাধানে তিনি রাজি আছেন।
জাকিয়া আক্তার বলেন, তিনি স্বামীর সংসার করতে চান; কিন্তু মায়ের মামলার কারণে তার স্বামী কারাগারে রয়েছেন। সাফিনের বোন সুমাইয়া আক্তারের অভিযোগ, মামলার কারণে তাদের পরিবার মান-সম্মান ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
দুই তরুণ-তরুণীর বিয়ে, মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের অনেকে দুই পরিবারের বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।




