অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়ায় বসতবাড়িতে ঢুকে এক নারীকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির পাশাপাশি মারধর ও গলায় চাপ দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আসামিরা ওই নারীর ঘরের দরজায় দুটি তালা লাগিয়ে তাকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক কচুয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে ওই নারীর বসতঘরের তালা খোলার ব্যবস্থা করেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। এর পরদিন বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কচুয়া থানা পুলিশ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই নারীর বসতঘরের তালা খুলে দেয়।
রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরি গ্রামের গাজী বাড়িতে বাদী রাশিদা বেগমের (৪২) বসতঘরে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর কচুয়া আমলী আদালতে সি.আর মামলা নং-৯১৯/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন আইনগিরি গ্রামের মৃত আনু মিয়ার ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (৪৫) এবং মো. মোবারক হোসেনের ছেলে মো. আজিদ উল্লাহ (৪০)। অভিযোগে আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিদা বেগমের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে তালাকের পর তিনি ছেলে রাসেল ওরফে মানিককে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছেন। এ সুযোগে আসামিরা তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন। এর প্রতিবাদ করায় তার ছেলে রাসেলকে চুরি মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ ছড়ানোর অভিযোগও করেছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন আসামিরা রাশিদা বেগম ও তার ছেলেকে বাড়িতে বসবাস করতে হলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে জোর করে ঘর থেকে বের করে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নাসির উদ্দিন দুই হাত দিয়ে তার গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন এবং আসামিরা লোহার রড দিয়ে মারধর করে তাকে জখম করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। আসামিরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে বাদী ও তার ছেলে রাসেলকে ধারালো ছেনি দিয়ে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে গুম করার হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিদা বেগম বলেন, বিচারকের নির্দেশে তিনি আবার ঘরে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন। তবে আসামিরা যেকোনো সময় তার ও সন্তানের ক্ষতি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।




