অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৫ জন নতুন সার ডিলার নিয়োগের পর এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক কিংবা তাঁদের স্বজন। তবে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের দাবি, যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গত বুধবার (৭ অক্টোবর) নতুন ডিলার নিয়োগের তালিকা জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠায়। তালিকায় মতলব উত্তর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ছেংগারচর পৌরসভার জন্য ১৫ জনের নাম রয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিচয় নিয়ে অভিযোগ
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নে উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আল মামুন, বাগানবাড়ি ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া এবং ষাটনল ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন প্রধান রয়েছেন।
এ ছাড়া এখলাসপুর ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনু, দুর্গাপুর ইউনিয়নে ছাত্রদলের সদস্য নাহিদুল ইসলাম, কলাকান্দা ইউনিয়নে ছাত্রদলের সদস্য মিজানুর রহমান, ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন জয়, জহিরাবাদ ইউনিয়নে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিন প্রধান এবং সুলতানাবাদ ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন নিয়োগ পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মোহনপুর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত মো. সোহেল রানা, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাতিজা মো. রিদয়, গজরা ইউনিয়নে কীটনাশক ব্যবসায়ী মনির হোসেন, ফরাজীকান্দী ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গনি তপাদারের মেয়ের জামাই ও ফ্যামিলি কার্ডের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. সালাউদ্দিন খান এবং ছেংগারচর পৌরসভায় বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইমরান হোসেন ডিলারশিপ পেয়েছেন।
বঞ্চিত আবেদনকারীদের বক্তব্য
ডিলারশিপ না পাওয়া কয়েকজন আবেদনকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উপকরণের ব্যবসা করে আসা এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার দাবি জানান।
মোহনপুর ইউনিয়নের কীটনাশক ব্যবসায়ী ও ডিলারশিপের আবেদনকারী মিয়াজ উদ্দিন বলেন, তিনি ১৬ বছর ধরে কীটনাশকের ব্যবসা করছেন। তাঁর অভিযোগ, আগে সার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা একজনকে তাঁর ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এতে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের বক্তব্য
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, এ উপজেলা থেকে মোট ৬৮ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে একজনের নাম চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে বৈধ আবেদনগুলোর মধ্য থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছে।




