অনলাইন ডেস্ক: ওয়াকফ দলিল সংশ্লিষ্ট এস্টেটের ঐতিহাসিক সনদ এবং ওই দলিলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ওয়াকফ অর্ডিন্যান্সের বিধান মেনে এস্টেট পরিচালিত হয়। তাই অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পদ্ধতির সঙ্গে এটি একভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী।
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের আহমাদ আলী পাটওয়ারী রহ. ওয়াকফ এস্টেটে নতুন প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এস্টেটের নিকট দেনাদার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ঠিকাদার কবির হোসেন লিটন ধর্মমন্ত্রীর কাছে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
এস্টেটের মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ দাবি করেন, এস্টেটের কাজের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রিন্স শাকিল আহমেদ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এস্টেট নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত এস্টেটে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এস্টেটের সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তাঁরা হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়ছেন। এস্টেটের সঙ্গে কয়েকজনের আর্থিক ও সম্পত্তিগত বিরোধের মামলা আদালতে বিচারাধীন। আদালতে কোনো পক্ষ বৈধ পাওনা বা অধিকার প্রমাণ করতে পারলে ওয়াকফ বিধি অনুযায়ী তা কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
মোতওয়াল্লীর বক্তব্যে ঠিকাদার লিটনের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের কাজের ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। পি.বি.আই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে হিসাব না দেওয়া, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং এস্টেটের অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এসব বিষয়ে কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১.১৯ একর সম্পত্তি দিয়ে শুরু হওয়া ওয়াকফ এস্টেটটি পর্যায়ক্রমে ৯.৭০ একরে উন্নীত হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন মার্কেট প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কর্মসংস্থানমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
এস্টেটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, হযরত মকিমউদ্দিন শপিং সেন্টারের উন্নয়নকাজে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ঋণ পরিশোধে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বসতবাড়ি বর্তমানে ব্যাংকে বন্ধক রয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
মোতওয়াল্লী অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ ওয়াকফ দলিলের পরিপন্থী এবং আইনানুগভাবে টেকসই হওয়ার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রিন্স শাকিল আহমেদ।




