অনলাইন ডেস্ক: সাগর থেকে নদীতে আসা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে মেঘনা নদী ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দুটিই ফাঁকা ছিল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন, টিলাবাড়ী ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে নদীতে কোনো জেলে নৌকা দেখা যায়নি। ট্রলারে করে নদীতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেদের সচেতন করতে দেখা যায় জেলা মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীদের।
দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাটও ছিল জনশূন্য। নিষেধাজ্ঞার আগের দিন বুধবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে পাইকারি ও খুচরা ইলিশ কেনাবেচা চললেও বৃহস্পতিবার অধিকাংশ আড়তের সামনে কোনো কর্মচাঞ্চল্য ছিল না। কিছু আড়তে থাকা লোকজন হিসাব-নিকাশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন।
জেলা টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে ২২ দিনের জন্য শহরের সব বরফকল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দেশীয় জলাশয়ে চাষ করা মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নেই।
ঘাটের ইলিশ বিক্রেতা আকবর আলী বেপারী জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আড়তে এলেও সেদিন তেমন কোনো কাজ ছিল না।
এই ঘাটে ইলিশ ক্রয়-বিক্রির কাজে শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে তাদের অনেককে আড়ত ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অবসর সময় কাটাতে দেখা গেছে। শ্রমিক সোলায়মান ও আনিছুর রহমান জানান, কাজ না থাকলেও বাড়িতে বসে থাকতে ভালো না লাগায় তারা আড়তের পাশে বসে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, ২২ দিন সবাইকে বেকার থাকতে হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, অভয়াশ্রমের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত জেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ তিনটি দল অভিযান পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ২৪ ঘণ্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান ৮ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।




