অনলাইন ডেস্ক: আত্রাই নদীর শান্ত জল আর শীতল বাতাসের দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে শিবু মণ্ডলের। প্রায় ১৪ বছর আগে কাজের সূত্রে সুচরিতা রায়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুচরিতার পরিবার সামাজিক মর্যাদা, জাত-পাত ও অর্থ-বিত্তের কারণে সম্পর্কটি মেনে না নিলেও তিনি শিবুর সঙ্গে ঘর ছাড়েন। পরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিবুর একটি পা কেটে ফেলতে হয়; এরপর সুচরিতা তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন বলে শিবুর দাবি। বর্তমানে শারীরিক অক্ষমতা, প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ এবং স্বজন-বিচ্ছেদের কষ্টে তার দিন কাটছে।
সাধারণ আয়োজনে বিয়ের পর শিবু ও সুচরিতা সংসার শুরু করেন। শিবু দিনরাত পরিশ্রম করে স্ত্রীকে ভালো রাখার চেষ্টা করতেন। ভালো খাবার, পোশাক কিংবা শাড়ি—যা কিছু পেতেন, আগে সুচরিতার কথা ভাবতেন। তাদের সংসারে ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার আনন্দ ছিল বলে বর্ণনায় উঠে এসেছে।
কাজের সূত্রে দূরে যাওয়ার পথে একদিন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন শিবু। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচাতে একটি পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন।
শিবুর বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর সুচরিতার আচরণ বদলে যায়। তার দাবি, সুচরিতা তাকে আর্থিকভাবে অক্ষম অবস্থায় গ্রহণ করতে চাননি। একসময় সুচরিতা তাকে একা রেখে চলে যান এবং পরে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তাদের সন্তানকেও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না বলে শিবু দাবি করেন।
দুর্ঘটনার চিকিৎসায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে ধার করে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ হয়েছে শিবুর। ভারী কাজ করতে না পারায় ঋণ পরিশোধের উপায় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। এ সময়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাইয়েরা পাশে দাঁড়িয়েছেন। বৃদ্ধ বাবা শেষ বয়সেও কাজের সন্ধানে বের হন, আর ভাইয়েরা সাধ্যমতো তার দেখাশোনা ও ওষুধের ব্যবস্থা করেন।
শিবু এখন কাঠের ক্রাচে ভর দিয়ে কখনো বেতগাড়ি, ত্রিমোহনী ও ডাঙ্গাপাড়ার পথে হাঁটার চেষ্টা করেন। আত্রাই নদীর পাড়ে বসে তিনি মানুষের বদলে যাওয়া মন, ভোগের আকাঙ্ক্ষা এবং বিপদের সময়ে স্বজনের পাশে না থাকার বিষয় নিয়ে ভাবেন।
এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনে শিবু নিজের কষ্টের কথা জানান। প্রবীণ ব্যক্তি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, সবাই একরকম নয়। এরপর শিবু ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে থাকেন। তার জীবন এখন ঋণ, পঙ্গুত্ব ও স্বজন হারানোর কষ্টে ঘেরা।




