26.4 C
Bangladesh
শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম
#চাঁদপুরে ৩ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ, দুই জেলের কারাদণ্ড#গুজব ও অপতথ্যের সবচেয়ে বড় শিকার প্রধানমন্ত্রী: প্রেস সচিব#গাজীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম কবিরাজের গণসংযোগ#শাহমাহমুদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হৃদয় কাজী গ্রেপ্তার#ফরিদগঞ্জে মারধর, চুরির অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের চারজন নেতাকর্মী গ্রেফতার#ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে চার বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা#লক্ষ্মীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছির খানের সমাবেশ#শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু#কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ#ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু

ইলিশের পাশাপাশি দেশীয় মাছও হুমকিতে

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের নদী-খাল, বিল-হাওর ও জলাভূমি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য এবং কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের জলজ সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচিতি গড়ে উঠলেও নানা কারণে সেই বাস্তবতা সংকুচিত হচ্ছে। ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই অনিয়ন্ত্রিত ও ধ্বংসাত্মক মাছ শিকারে দেশীয় ছোট-বড় মাছের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।

চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় নদীটিতে রুই, কাতল, মৃগেল, কই, শিং, পুঁটি, মাগুর, চিংড়ি, মলা ও ঢেলাসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। নদীটির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বহু জেলে পরিবার। তবে অবৈধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি বা রিং জাল এবং গভীর রাতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকারের কারণে মাছের প্রাচুর্য দ্রুত কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব পদ্ধতিতে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু, পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধ্বংস হয়। এতে বর্তমানের মাছ কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতের মাছের সম্ভাবনাও নষ্ট হচ্ছে। প্রজননক্ষম মাছ ও পোনা ধ্বংস হলে নদীর স্বাভাবিক মৎস্যসম্পদ পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা বিপন্ন হতে পারে।

ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকার জলজ পরিবেশের জন্যও গুরুতর উদ্বেগের কারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান না থাকায় অসাধু শিকারিরা সুযোগ পাচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে শিগগিরই কঠোর অভিযান শুরুর কথা তিনি জানিয়েছেন। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ধারাবাহিক নজরদারি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি প্রয়োজন।

শুধু অবৈধ জালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; নদীর নাব্যতা, দূষণ, দখল, পানির প্রবাহ ও মাছের প্রজননক্ষেত্রও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রকৃত জেলেদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের বিকল্প জীবিকা, প্রজনন মৌসুমে সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডাকাতিয়া নদীর সংকট কেবল একটি নদীর সংকট নয়। দেশের অন্যান্য নদী-খাল ও জলাভূমিতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে খাদ্যনিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইলিশ রক্ষার পাশাপাশি পুঁটি, মলা, ঢেলা, শিং ও মাগুরসহ দেশীয় মাছ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ