অনলাইন ডেস্ক: শেষ রাতে ফজরের সময় মহল্লার মসজিদ থেকে ভেসে আসা মুয়াজ্জিনের সুমধুর আজানের ধ্বনি ও ভোরের পাখিদের কিচিরমিচিরে আলম শেখের ঘুম ভেঙে যায়। মুখ-হাত ধুয়ে ওজু করে নামাজ আদায় করেন তিনি। ততক্ষণে চারদিকে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ে।
আলম শেখের বাড়ির সদর দরজার দুই পাশে গোলাপসহ বিভিন্ন ফুলগাছ রয়েছে। সলিং করা পথ পেরিয়ে বাড়িতে ঢুকতে হয়। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি ফুলগাছে পানি দিচ্ছিলেন। ঢাকা গুলশান রোডের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে পাঁচ শতক জমির ওপর তাঁর চার কক্ষের একতলা ছাদের বাড়ি। বাড়িটিতে অতিথিকক্ষ ও রান্নাঘর রয়েছে। সামনের পথ দিয়ে ভ্যান, রিকশা, মোটরবাইক ও ছোট গাড়ি চলাচল করতে পারে।
ফজরের নামাজ শেষে আলম শেখের স্ত্রী শেফালী বেগম প্রাতরাশ তৈরির জন্য রান্নাঘরে যান। যাওয়ার পথে মেয়ের ঘরের দরজায় মৃদু ধাক্কা দিয়ে অর্পিতাকে ডাকেন। মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে আলম শেখের একমাত্র মেয়ে অর্পিতার। সামনে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় সে রাতে জেগে পড়াশোনা করেছিল।
ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসে বই পড়ছিল অর্পিতা। এ সময় ফজরের নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে কোরআন পড়া দাদী সায়মা বেগম তাকে চশমা এনে দিতে বলেন। বয়স আশির ঊর্ধ্বে হওয়ায় সায়মা বেগমের চোখে ছানি পড়েছে এবং চশমা ছাড়া কাছের জিনিস দেখতে তাঁর কষ্ট হয়।
প্রতিদিন চশমা আনতে বলায় অর্পিতা প্রথমে বিরক্তি প্রকাশ করে। সায়মা বেগম জানান, বয়সের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি দুটিই কমে গেছে। এতে দাদী কষ্ট পেয়েছেন বুঝতে পেরে অর্পিতা তাঁকে জড়িয়ে ধরে নিজের কথার জন্য অনুতপ্ত হয়।
অর্পিতা দাদীকে জানায়, মানুষের আয়ু এবং নানা রোগ-দুর্ঘটনার কারণে সে নিজে কতদিন বাঁচবে, তা নিয়েও তার সন্দেহ আছে। করোনা রোগ নিয়েও সে উদ্বেগ প্রকাশ করে। জবাবে সায়মা বেগম নাতনির দীর্ঘায়ুর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তখন অর্পিতা হাসিমুখে জানায়, সে সারা জীবন পরিবারের মাঝে চিরতরুণ হয়ে থাকতে চায়।




