26.4 C
Bangladesh
শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম
#চাঁদপুরে ৩ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ, দুই জেলের কারাদণ্ড#গুজব ও অপতথ্যের সবচেয়ে বড় শিকার প্রধানমন্ত্রী: প্রেস সচিব#গাজীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম কবিরাজের গণসংযোগ#শাহমাহমুদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হৃদয় কাজী গ্রেপ্তার#ফরিদগঞ্জে মারধর, চুরির অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের চারজন নেতাকর্মী গ্রেফতার#ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে চার বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ৪০ লাখ টাকা#লক্ষ্মীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছির খানের সমাবেশ#শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু#কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ#ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু

স্মৃতির ক্যানভাসে শৈশবের সোনালি দিনগুলো

অনলাইন ডেস্ক: হারিকেনের মিটিমিটি আলো, গাছতলায় বন্ধুদের আড্ডা, নদীর বুকে ছোট্ট নৌকা, মাটির কলসির ঠাণ্ডা পানি, হাটের দিনের কোলাহল, ডাকপিয়নের চিঠি, শীতের পিঠা আর সন্ধ্যার আজানের স্মৃতিতে মিশে আছে বাংলার এক প্রজন্মের শৈশব। সময়ের সঙ্গে জীবনযাপনের ধরন বদলালেও প্রযুক্তিনির্ভর ঝলমলে পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে মানুষ আজও ফিরে তাকায় সেই দিনগুলোর দিকে, যখন সামান্য আনন্দেই মন ভরে যেত।

মানুষের জীবনে শৈশব এমন এক অধ্যায়, যার পাতা পুরোপুরি বন্ধ হয় না। বয়স ও দায়িত্ব বাড়লেও মনের গোপন কোণে শৈশবের স্মৃতি বেঁচে থাকে। জীবনের ক্লান্ত বিকেল বা নিঃসঙ্গ রাতে মনে পড়ে সামান্য খেলনা, নতুন বই, রঙিন মার্বেল কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলের খেলায় পাওয়া আনন্দের কথা।

সহজ আনন্দের দিন

শৈশবের আনন্দ ছিল সহজ, নির্মল ও অকৃত্রিম। প্রতিযোগিতার চেয়ে বন্ধুত্ব এবং প্রাপ্তির চেয়ে ভাগাভাগির আনন্দ ছিল বেশি মূল্যবান। কয়েকজন বন্ধু মিলে পেয়ারা বা আম খাওয়া, বর্ষার পানিতে কাগজের নৌকা ভাসানো, মাঠজুড়ে দৌড়ানো কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার মতো ছোট ঘটনাগুলো সময়ের সঙ্গে অমূল্য স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

একসময় শিশুরা আকাশের মেঘে হাতি, পাহাড় বা জাহাজের আকৃতি কল্পনা করত। সেই কল্পনার জগতে জীবনের কঠিন হিসাব ছিল না; ছিল মুক্ত আকাশের নিচে বেড়ে ওঠার আনন্দ। গ্রামের বটগাছ, পুকুরপাড়, নদীতীর ও আমগাছ ছিল শিশু-কিশোরদের মিলনস্থল। বিকেলে সেখানে গল্পের আসর বসত, যা কখন সন্ধ্যায় গড়িয়ে যেত তা টের পাওয়া যেত না।

লুকোচুরি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি ও ডাংগুলি খেলায় মেতে থাকত শিশুরা। কারও হাতে থাকত মার্বেল, কারও কাছে লাটিম। খেলাকে কেন্দ্র করে অভিমান হলেও কিছুক্ষণ পর সবাই আবার একসঙ্গে খেলায় ফিরত। পোশাক, জুতা বা পরিবারের আর্থিক অবস্থান দিয়ে বন্ধুত্বের গভীরতা মাপা হতো না। নতুন বল কিংবা বাড়ির ভালো রান্না বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই ছিল স্বাভাবিক।

প্রকৃতি ও হাটের টানে

নগরায়ণ, ব্যস্ত জীবন ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের কারণে অনেক জায়গায় গাছতলার আড্ডা এবং মাঠে খেলার সুযোগ কমে যাচ্ছে। তবু বহু বছর পর পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে সেই স্মৃতি ফিরে আসে। বয়স, পেশা ও সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য তখন যেন মুহূর্তের জন্য মিলিয়ে যায়।

বাংলার নদী, খাল, বিল, পুকুর ও জলাভূমির সঙ্গে বহু মানুষের শৈশব জড়িয়ে আছে। বর্ষায় ছোট নৌকায় চলাচল, মাঝির বৈঠার ছন্দ, সবুজ গাছপালা, ধানের খেত ও কাদামাটির গন্ধ শিশুদের মনে বিস্ময় জাগাত। কেউ নৌকায় মাছ ধরার চেষ্টা করত, কেউ পানিতে ঢেউ তুলত, আবার কেউ কাগজের নৌকা ভাসিয়ে প্রতিযোগিতা করত।

গ্রামের হাট ছিল কেনাবেচার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্র। শিশুদের কাছে হাটের দিন ছিল বিশেষ আনন্দের। খেলনা, বাঁশি, মাটির পুতুল, রঙিন বেলুন, জিলাপি, বাতাসা ও মুড়ি-মুড়কি তাদের আকর্ষণ করত। হাটে কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মিলন ঘটত; পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা ও গ্রামের খবর বিনিময়ও হতো। হাট থেকে কেনা ছোট্ট খেলনা নিয়ে বন্ধুদের সামনে গর্ব করা এবং পরদিন স্কুলে হাটের গল্প বলা ছিল শৈশবের আরেক আনন্দ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ