অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি জেলার নাটক, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রকলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। জেলার শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিয়মিত চর্চা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানের কালচারাল অফিসার দিতি সাহার দায়িত্ব পালন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, মহড়া কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ এবং প্রশিক্ষক নিয়োগ ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাঁদপুরের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁকে চাঁদপুর থেকে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁদের কেউ কেউ।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ, কালচারাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনে দিতি সাহার প্রত্যাশিত সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান, নাটকের মহড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাঁকে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না বলে দাবি তাঁদের।
সম্প্রতি চাঁদপুর জেলা বিএনপির আয়োজনে ১৪ দিনব্যাপী ‘মেইড ইন চাঁদপুর কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ এবং চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে দিতি সাহাকে একদিনের জন্যও নিয়মিত উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এ বিষয়ে তাঁর কাছে উপস্থিতির দিনসংখ্যা জানতে চাওয়া হলেও তিনি নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।
মহড়া কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ নিয়েও কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, দিতি সাহা যোগদানের পর নিয়মিত মহড়া ও রিহার্সালের জন্য আগের মতো সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের মহড়া ও কক্ষ ব্যবহারের সময়সূচি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
দিতি সাহা বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে সবাইকে মহড়া করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও ভাড়া সাপেক্ষে মহড়া করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুদানের আবেদনসংক্রান্ত কাজে স্বাক্ষর নিতে গিয়ে কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষার পর বেলা ১২টার দিকে কালচারাল অফিসার উপস্থিত হন। তাঁর অফিসিয়াল সিল সঙ্গে না থাকায় কয়েকজনকে ফিরে যেতে হয় এবং পরে দুই-তিন দিন ধরে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কয়েকজন তবলা ও নৃত্য প্রশিক্ষককে বাদ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংস্কৃতিকর্মীদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, প্রশিক্ষক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কেউ কেউ এ ঘটনায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছেন।
দিতি সাহা বলেন, প্রশিক্ষকদের এক বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই চুক্তির ভিত্তিতেই তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা ও সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংস্কৃতিকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, মহড়া ও অন্যান্য কার্যক্রমে কিছু সংগঠন সুযোগ পেলেও অন্যরা একই সুযোগ পাচ্ছে না। এ কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো পক্ষপাত রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দিতি সাহা ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি চাঁদপুরে যোগদান করেন। তাঁর দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীদের কেউ কেউ। তবে বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিমালা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
নিজের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগ প্রসঙ্গে দিতি সাহা বলেন, বিষয়টি যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা সে রকম নয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে যেসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেসব অনুষ্ঠানে থাকতে হয় বলেও জানান তিনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা নেই বলে তাঁর বক্তব্য।
চাঁদপুরের সংস্কৃতিকর্মীদের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের কেউ কেউ দিতি সাহাকে চাঁদপুর থেকে প্রত্যাহার করে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও সংস্কৃতিকর্মীবান্ধব কর্মকর্তা পদায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।




