অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিবেশী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জমির সীমানা দখল ও সৃজনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি কেটে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হামছাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. নূর নবী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগটি দেন।
অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হামছাপুর মৌজায় ৩.৫০ শতক জমি কিনে ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে সংলগ্ন জমি কেনেন শাহাদাত হোসেন।
অভিযোগে নূর নবী দাবি করেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি তার অনুপস্থিতিতে শাহাদাত হোসেন সরকারি চাকরির ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নিজের কেনা জমির দখল নেন এবং সীমানা নির্ধারণ করেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর শাহাদাত হোসেন ও তার লোকজন তার জমিতে প্রবেশ করে বাগানের ফলজ, বনজ ও বেলজিয়াম গাছ কেটে ফেলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাধা দিলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন নূর নবী।
নূর নবীর ভাষ্য, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিকভাবে জানিয়ে সমাধান না পাওয়ায় তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন।
তবে জমি মাপজরিপকারী আমিন বোরহান উদ্দিন মোল্লা জানান, সীমানা নির্ধারণের দিন নূর নবী উপস্থিত না থাকলেও জমিটির মূল বিক্রেতা উপস্থিত ছিলেন। সিএস ও বিআরএস দাগ-নকশা অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নূর নবী বিষয়টি তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন এবং তিনি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
গাছ কাটা ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহাদাত হোসেন। তার দাবি, নূর নবী যে গাছ কাটার কথা বলছেন, সেগুলো তার নির্ধারিত সীমানার মধ্যে পড়েছে। জমি মাপজরিপের দিন নূর নবীকে উপস্থিত থাকতে বলা হলেও তিনি আসেননি বলেও জানান তিনি। শাহাদাত হোসেনের দাবি, পূর্বে জমিটি কিনতে না পারার ক্ষোভ থেকে নূর নবী মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।




