অনলাইন ডেস্ক: গ্রামবাংলার প্রথাগত ও ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, উৎপাদিত পণ্যের আধুনিকায়ন এবং তাঁদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পেশাভিত্তিক ‘সফটস্কিল’ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচিত ৩০ জন প্রান্তিক নারী-পুরুষের প্রত্যেককে এককালীন ১৮ হাজার টাকার অনুদানের চেক ও সনদপত্র দেওয়া হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ কর্মসূচির আয়োজন করে। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রশিক্ষণ সমাপনী ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বাশির ও সহকারী পরিচালক শফিউদ্দিন মিতুল।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এমএ হান্নান, উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মেহেদী হাসান, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আল আমিন তালুকদার, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মৃৎশিল্প, কামার, বাঁশ-বেত, কাঁসা-পিতল ও জুতা মেকানিকের মতো ঐতিহ্যবাহী পেশা আধুনিকতার প্রভাবে বিলুপ্তির মুখে রয়েছে। প্রযুক্তি ও দক্ষতার ঘাটতিতে পিছিয়ে থাকা এসব পেশাজীবীকে টিকিয়ে রাখতে আধুনিক প্রশিক্ষণ জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, ২০১৭ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পে যুক্ত মানুষদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় প্রকল্প পরিচালকসহ অতিথিরা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ৩০ জনের হাতে অনুদানের চেক ও প্রশিক্ষণ সনদপত্র তুলে দেন।




