অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করার অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরী বাতাবাড়িয়া গ্রামের ফকির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে.
থানা সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল আইনগিরী-বাতাবাড়িয়া গ্রামের দিদার হোসেনের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে যায়। এ সময় পাশের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় কয়েকজন মাদক কারবারি পুলিশের এএসআই শহিদুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটে। পরে এএসআই শহিদুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এএসআই শহিদুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ টর্চ লাইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার মেম্বার, মকবুল হোসেনসহ কয়েকজনের দাবি, পুলিশের ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল ফোন ফেলে যায় অভিযুক্তরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার তিন দিন পরও ফোনটি উদ্ধার করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনগিরী ও বাতাবাড়িয়া গ্রামে মাদকবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে গণস্বাক্ষর নেওয়া হয়। সেখানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এরশাদ হোসেন, সাইদুল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, তাঁর ছেলে নাবিল হোসেন, মা ওজুফা খাতুন, মাসুদ ও আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত মাদক কারবারিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলা থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা এনে এলাকায় কেনাবেচা করছেন। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পুলিশের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




