অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো নাগরিককে পেছনে না রাখা। বাস্তবে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেক মানুষ জীবনসংগ্রামে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দয়া বা ভিক্ষা নয়, তারা মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার নিশ্চয়তা চান। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগ অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে প্রশাসনের সংবেদনশীল ভূমিকার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
প্রকাশিত খবরের সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বড়ালী গ্রামের আজিম বাড়ির মনোহর-ফুলবানু দম্পতির ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসনিক উদ্যোগে তাদের জন্য একটি নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়।
২৩ আগস্ট ২০২৬ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটির চাবি হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে স্থায়ী জীবিকার লক্ষ্যে একটি নতুন ফ্রিজ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং দোকানঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো এবং একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে সংকটে পড়া অটোবাইক চালক প্রতিবন্ধী আবু তাহেরের বিষয়টি সামনে আসে। তার আকুতির কথা প্রকাশের পর ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। নিজের শ্রমে বাঁচতে চাওয়া আবু তাহেরের হাতে একটি অটোবাইকের চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়।
দুটি উদ্যোগেই সাময়িক ত্রাণের পরিবর্তে আত্মমর্যাদা রক্ষা করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের জন্য পাকা ঘর ও আয়ের ব্যবস্থা এবং আবু তাহেরের হাতে অটোবাইক তুলে দেওয়া—দুটিই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অসহায় মানুষের সমস্যার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত সাড়া ‘সংবাদ থেকে সমাধান’-এর একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। এ ধরনের সংবেদনশীলতা ও দায়িত্ববোধ মাঠ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।




