অনলাইন ডেস্ক: নিজের ছোট্ট বারান্দায় বসে বড় আকাশ দেখা যায়। ভোরের সূর্য ও পূর্ণিমার চাঁদ দেখার এই সুযোগ আর কতদিন থাকবে, তা জানা নেই। প্রকৃতির দিকে তাকিয়েই বোঝা যায়, এটি বাঙালির শরৎকাল—ছয় ঋতুর তৃতীয় ঋতু, যার সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য বাঙালির জীবনকে দীর্ঘদিন ধরে আনন্দ ও উদ্যাপনের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে।
সময়ের পরিবর্তনে অনেক ঋতুর বৈশিষ্ট্য কিছুটা ম্লান হলেও বসন্ত, বর্ষা ও শীতের প্রতি বাঙালির বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে। প্রতিটি ঋতুই মানুষের জীবনকে কোনো না কোনোভাবে উৎসব ও উদ্যাপনের সঙ্গে যুক্ত করে। হেমন্তে মাঠের ধান পেকে সোনালি হয়। কৃষক সেই ধান ঘরে তোলেন, আর নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠা-পায়েস তৈরির আয়োজন হয়। এই উৎসবই নবান্ন নামে পরিচিত।
বর্ষা প্রকৃতিকে সবুজ ও সতেজ করে এবং কবি-লেখকের মনকে জাগিয়ে তোলে। তবে অতিবৃষ্টিতে ফসলের জমি তলিয়ে গেলে কৃষক, শ্রমিক, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। শীতও দরিদ্র মানুষের জন্য কষ্ট বয়ে আনে; শুষ্কতা ও ধুলায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে রুক্ষ।
শরতের প্রকৃতি ও সৌন্দর্য
লেখকের কাছে শরৎ সৃষ্টির প্রতীক, সম্ভার ও সম্ভাবনার ঋতু। এ সময় বাংলার আকাশ পরিষ্কার নীল থাকে, পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায় এবং নানা রঙের ঘুড়িতে আকাশ রঙিন হয়ে ওঠে। বর্ষার আর্দ্রতা কেটে গিয়ে আবহাওয়ায় তৈরি হয় শান্ত, কোমল ও ঠাণ্ডা আমেজ।
শরতে নদীর ধার ও ফাঁকা মাঠ সাদা কাশফুলে ভরে যায়। ভোরে গাছের নিচে শিউলি ঝরে পড়ে। বেলি, টগর, ছাতিম ও কামিনী ফুলও ফোটে। বিলে-পুকুরে শাপলা-শালুক, আকাশে সাদা বকের সারি এবং প্রকৃতিতে প্রজাপতি ও ফড়িংয়ের চলাচল ঋতুটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
উৎসব ও স্মৃতিতে শরৎ
শরতের সৌন্দর্য ও নবান্নের আনন্দ কৃষিপ্রধান বাংলার মানুষের জীবনে নতুন উদ্দীপনা আনে। কুমোর, কামার, ঢাকি, জেলে, ময়রা, শিল্পী, কবি, গায়ক ও লেখকেরা সৃষ্টির নেশায় জেগে ওঠেন। শরতের শিউলি ও কাশফুলের আবহে শুরু হয় বাঙালির সার্বজনীন দুর্গোৎসব। লেখকের স্মৃতিতে চাঁদপুরের সত্তর-আশির দশক এবং রাজশাহীর ষাটের দশকের দুর্গোৎসবও ফিরে আসে।




