অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সৌদিফেরত এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজের আপন প্রবাসী ভাইয়ের বসতঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কুড়াল দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আইটপাড়া বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই বাড়ির প্রবাসী মাসুদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর মেজ ভাই মাহবুব আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সময় মাহবুব কুড়াল নিয়ে বড় ভাই মাসুদের ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন বলে অভিযোগ। পরে তিনি জানালার থাই গ্লাস ও আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালান। শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এসে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি বলে জানা গেছে।
মাহবুবের বাবা আব্দুর রহিম বলেন, তাঁর মেজ ছেলে দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। মানসিক অসুস্থতা ও ভাইদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। ঘটনার সময় তাঁকে থামাতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের ছোড়া ইটের আঘাতে মাহবুব কিছুটা আহত হন বলেও জানান তিনি।
মাহবুবের স্ত্রী জেসমিনের অভিযোগ, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাঁর স্বামীকে দেশে আনা হয়েছিল। পাওনাদারদের চাপ ও মানসিক যন্ত্রণায় তিনি অতিষ্ঠ ছিলেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে ইট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করলেও চিকিৎসা না দিয়ে খারাপ আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন জেসমিন।
মাহবুব আলম দাবি করেন, প্রায় ১৫ বছর বিদেশে উপার্জন করে তিনি সব টাকা পরিবারকে দিয়েছেন এবং ভাইদেরও বিদেশে নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভাইয়েরা বিদেশের দোকান দখল করে তাঁকে নিঃস্ব করে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিন দিন আগে সাহার বাজারে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাগ ও ক্ষোভ থেকে ঘরে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে জানান মাহবুব।
তবে মাসুদ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মাহবুব তাঁর কাছে কোনো টাকা পান না এবং মারধরের অভিযোগও মিথ্যা। কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর ঘরের তালা ভেঙে থাই গ্লাস, ফার্নিচার ও মালামাল নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাসুদ। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন।




