অনলাইন ডেস্ক: সমাজে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা পদ-পদবি বা বিত্তবৈভব দিয়ে নয়, কর্ম, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর নয়াকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিদায়ী খতিব মাওলানা মো. ফজলুর রহমানের প্রতি মুসল্লি ও এলাকাবাসীর ভালোবাসাপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনা এরই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ ৪৮ বছর খতিবের দায়িত্ব পালনের পর ২৭টি সুসজ্জিত গাড়ির বহরে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
একজন খতিব শুধু জুমার নামাজে খুতবা প্রদান করেন না; তিনি সমাজের নৈতিক শিক্ষক, ধর্মীয় পথপ্রদর্শক এবং মানুষের বিপদ-আপদে আস্থার আশ্রয় হিসেবেও ভূমিকা রাখেন। তাঁর উপদেশে মানুষ ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে শেখে এবং তাঁর শিক্ষায় শিশু-কিশোরেরা ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করে। পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতেও অনেক সময় খতিবদের ভূমিকা থাকে।
বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তাদের স্মৃতিচারণে মাওলানা মো. ফজলুর রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বক্তারা উল্লেখ করেন, কয়েক প্রজন্মের মানুষের শিক্ষা, নৈতিকতা ও চারিত্রিক গঠনে তাঁর অবদান তাঁকে এলাকাবাসীর হৃদয়ে বিশেষ স্থান দিয়েছে।
দায়িত্ব পালনের পর অনেক গুণী মানুষ যথাযথ মূল্যায়ন পান না। বিশেষ করে মসজিদের ইমাম-খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অবদান প্রায়ই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বাইরে থেকে যায়। অথচ তাঁদের শ্রম মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও জীবনাচরণে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
সে বিবেচনায় মাওলানা মো. ফজলুর রহমানকে দেওয়া এই সম্মান শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নয়; ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত মানুষের অবদানের প্রতিও সামাজিক স্বীকৃতি।




