অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার ও নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ২টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান এবং থানা পুলিশের একটি দল এ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেয়। পরে মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
একই স্থানে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন স্থানীয় চান্দ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ। জানাজার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী।
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। পরিবার জানায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বনানীর নিজ বাসভবনে তিনি স্ট্রোক করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মৌলভী আব্দুল হামিদ ও আয়েশা খাতুনের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাজ্য ও জাপানে সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর শিক্ষা নেন। ২০১৫-২০১৮ সেশনে পরপর দুইবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তিনি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্যও ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস), ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।




