অনলাইন ডেস্ক: বিদ্রোহী কবি ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২১ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরে এসেছিলেন। কোনো সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়, বরং যাত্রাপথে অর্থসংকটের কারণে তাঁকে চাঁদপুরে যাত্রাবিরতি করতে হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বন্ধু কমরেড মুজফ্ফর আহমদ। কবির এই সাময়িক অবস্থানই চাঁদপুরের সংস্কৃতির ইতিহাসে যুক্ত করেছে এক অনন্য স্মৃতিঅধ্যায়।
কুমিল্লা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নজরুল ও মুজফ্ফর আহমদ শহরের তৎকালীন স্ট্র্যান্ড রোডের ডাকবাংলোয় আশ্রয় নেন। অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের ‘কাজী নজরুল ইসলাম : জীবন ও সাহিত্য’ গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় টেলিগ্রাম করে যাত্রাভাড়ার টাকা চাওয়া হলে কংগ্রেস নেতা হরদয়াল নাগ তাঁদের কাছে ১২ টাকা পৌঁছে দেন। পরে তাঁরা স্টিমারযোগে গোয়ালন্দ হয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন।
কবির স্মৃতিবিজড়িত স্ট্র্যান্ড রোডের নাম পরে ‘কবি নজরুল সড়ক’ করা হয়। বর্তমানে সেখানে চাঁদপুর পৌরসভার উদ্যোগে কবি নজরুল পার্ক ও কবি নজরুল মিলনায়তন রয়েছে।
পাঠাগার ও সেমিনার কক্ষ প্রতিষ্ঠার দাবি
নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, সাম্যবাদী চেতনা, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির নতুন ভবনে ‘কবি নজরুল পাঠাগার’ ও ‘কবি নজরুল সেমিনার কক্ষ’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর আয়োজিত নজরুলকে নিবেদিত সাহিত্যসভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে এ দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঠাগারে নজরুলের রচনাবলি, তাঁর জীবন ও সাহিত্যবিষয়ক গবেষণাগ্রন্থ, পত্রপত্রিকা এবং দুর্লভ প্রকাশনা সংগ্রহ করা যেতে পারে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী, সাহিত্যসভা, পাঠচক্র ও সেমিনার আয়োজনের সুযোগ থাকবে।
সেমিনার কক্ষটি নজরুল গবেষক, সাহিত্যিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মতবিনিময়ের ক্ষেত্র হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।




