অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষকের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের এক অফিস সহকারীকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। অভিযোগ তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া দুজন হলেন বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জুয়েল তালুকদার ও অফিস সহকারী মো. সুমন। ইউএনও কে এম ইশমাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মো. শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয় ও ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এবং সম্প্রতি জুয়েল তালুকদারের ফেসবুক আইডি থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তি ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব পোস্ট শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে অফিস সহকারী সুমনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে বিষয়টি আসার পর তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে একাধিক ব্যক্তি, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী ও সংবাদকর্মী এসব পোস্টের তথ্য-প্রমাণসহ ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন।
প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে জুয়েল তালুকদারকে শ্রেণি কার্যক্রম থেকে এবং সুমনকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র ধর ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল হাই।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছিলেন। মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকারও অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, তাঁর ভুল হয়েছে এবং তিনি পরে পোস্টগুলো মুছে দিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ও অফিস সহকারী সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
প্রধান শিক্ষক কাজী মো. শাহ আলম জানান, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। ইউএনও কে এম ইশমাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




