26.4 C
Bangladesh
শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
spot_imgspot_img

সংবাদ শিরোনাম
#একজন সহকর্মীর অকালপ্রয়াণে অপূরণীয় শূন্যতা, স্মৃতি ও না-বলা কথা#শাহরাস্তিতে প্রশাসনের উদ্যোগে বৃদ্ধা জয়নব ভানুর আশ্রয় নিশ্চিত#সুজনের অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসায় সহযোগিতার আহ্বান#পুলিশের হস্তক্ষেপে কচুয়ায় নবমুসলিম স্ত্রী ফিরলেন স্বামীর ঘরে#ইব্রাহিমপুরে ৪০০ একর কৃষিজমি দখল করে মাছ চাষ, উচ্ছেদ অভিযান#পূর্ব বিতারা ইউনিয়নে চাংপুর গ্রামকে এক ওয়ার্ডে রাখার দাবিতে মানববন্ধন#কচুয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী মিলন#সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান#আজ নিরাপদ সড়ক দিবস: সড়ক দুর্ঘটনায় থমকে গেছে হাজীগঞ্জের শিক্ষার্থী ইশরাতের স্বপ্ন#চাঁদপুরে তাবলীগ জামাতের তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু

একজন সহকর্মীর অকালপ্রয়াণে অপূরণীয় শূন্যতা, স্মৃতি ও না-বলা কথা

অনলাইন ডেস্ক: কিছু বিদায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিছু মানুষের চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারকে শোকাহত করে না, কর্মস্থলেও তৈরি করে গভীর শূন্যতা। গতকালও যে সহকর্মীর সঙ্গে কথা হয়েছে, কাজের ফাঁকে হয়েছে খুনসুটি, মতের অমিল কিংবা সামান্য অভিমান—পরদিন সেই মানুষটির আর পৃথিবীতে না থাকার খবর বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। দরজা খোলে, মানুষ আসে, কাজ শুরু হয়; শুধু সেই মানুষটি আর ফিরে আসেন না।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের কর্মী, চাঁদপুর শহর প্রতিনিধি ও কম্পিউটার অপারেটর মো. মোস্তফা কামাল খান সুজনের অকালমৃত্যু কর্মস্থলে এমনই এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু পত্রিকাটির কর্মজীবনের একটি পরিচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। ১৮ অক্টোবর রাতে অফিসের কাজ শেষ করে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পরদিন তাঁর নিথর দেহ ফিরে আসার সংবাদ সহকর্মীদের স্তব্ধ করে দেয়।

সুজনের ব্যবহৃত কম্পিউটার, কর্মস্থল ও কাজের স্মৃতি এখনো রয়েছে; নেই শুধু তিনি। তাঁর হাসিমুখ, কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ সহকর্মীদের মনে বারবার ফিরে আসছে। ছয় বছর দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সঙ্গে যুক্ত থেকে পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার পেছনে তিনি নেপথ্যে শ্রম দিয়েছেন।

সংবাদ সংগ্রহ থেকে সম্পাদনা, কম্পোজ, পৃষ্ঠাসজ্জা, প্রুফ দেখা, ছাপা এবং পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া—প্রতিটি ধাপেই সুজনের মতো কর্মীদের দায়িত্ব ছিল। তিনি ছিলেন পরিচিত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল একজন সহকর্মী। তাঁর অনুপস্থিতিতে কাজ চলবে এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া যাবে; তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস, সম্পর্ক ও স্মৃতির শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

সহকর্মীদের স্মৃতিতে সুজন

সার্কুলেশন ম্যানেজার সোহাঈদ খান জিয়ার সঙ্গে সুজনের খুনসুটি ছিল অফিসের পরিচিত দৃশ্য। তাঁদের কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টা ও পারস্পরিক মন্তব্য কর্মপরিবেশে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করত। এখন সেই কথোপকথন আর হবে না; কোনো আলোচনায় হয়তো মনে পড়বে, সুজন থাকলে কী বলতেন।

কোনো বিষয়ে মতানৈক্য হলে সুজন অনেক সময় চুপ করে যেতেন। বাইরে থেকে মনে হলেও তিনি কথা বাড়াতে চান না, তাঁর নীরবতার মধ্যে অভিমান জমে থাকত বলে মনে হতো। তাঁর মৃত্যুর পর সেই মুহূর্তগুলো নতুন করে মনে পড়ছে। অনেক কথা আর বলা যায় না, অনেক অভিমান মেটানোর সুযোগও থাকে না।

নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ও উদ্ভাবনী চেতনা ছিল সুজনের মধ্যে। কম্পিউটার, পৃষ্ঠাসজ্জা, ডিজিটাল যোগাযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরিবর্তিত পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে তিনি আগ্রহী ছিলেন। সংবাদপত্রের নিয়মিত প্রকাশনায় নেপথ্য কর্মীদের শ্রমের গুরুত্ব ছিল তাঁর কাজেও স্পষ্ট।

সুজন প্রায়ই বলতেন, “আপনাকে কেউ আর ধরতে পারবেন না, আপনি অনেক উপরে উঠবেন।” কথাটিতে ছিল উৎসাহ, বিশ্বাস ও শুভকামনা। বয়সে সমান হলেও তিনি সব সময় ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করতেন। তাঁর সেই ভদ্রতা ও আন্তরিকতা এখন স্মৃতির অংশ।

সুজনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারও গভীর বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তাঁর স্ত্রী, মা, ভাইবোন এবং দুই মেয়ে ও এক ছেলে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। সন্তানদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে বাবার অনুপস্থিতি তাদের বারবার অনুভূত হবে।

শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সহকর্মী ও সমাজের মানবিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা, সন্তানদের শিক্ষায় সহায়তা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব উদ্যোগ সম্মানজনক, স্বচ্ছ এবং পরিবারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

সহকর্মীদের মনে সুজনের হাসি, কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা, শেখার আগ্রহ ও উৎসাহ দেওয়ার অভ্যাস বেঁচে থাকবে। কাজ চলবে, কিন্তু কর্মস্থলে তাঁর জায়গাটি স্মৃতিতে অপূরণীয়ই থেকে যাবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

2,181FansLike
3,912FollowersFollow
22,900SubscribersSubscribe

-advertisement-

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ সংবাদ