অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে পরিচিত মুখ পি এম বিল্লাল। সংগঠক, নাট্যাভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক হিসেবে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি কাজ করছেন। মঞ্চনাটকের প্রতি ভালোবাসা, শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং নাটকের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই তাঁর এই পথচলা। মঞ্চে অভিনয় ও সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েও তিনি কাজ করছেন।
শৈশব-কৈশোরের সাংস্কৃতিক পরিবেশ তাঁকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আগ্রহী করে তোলে। প্রায় দুই যুগ আগে জাতীয় শিশু সংগঠন ‘ঐকতান খেলাঘর আসর’-এর মাধ্যমে চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরে চাঁদপুর থিয়েটারে যোগ দিয়ে ‘১৯৭১’ নাটকে ইমাম চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চাভিনয়ে অভিষেক ঘটে।
নাট্যকার হানিফ পাটওয়ারীর আমন্ত্রণে তিনি বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন। ‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’র প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘ইঙ্গিত’, ‘দেশের মানুষ’, ‘তোমরাই’, ‘রাক্ষুসী’ ও ‘রূপবান’ নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’ চাঁদপুর জেলা সংসদে যুক্ত হন। নাট্যনির্দেশক আকরাম খানের নির্দেশনায় ‘ইদানিং তিনি ভদ্রলোক’ ও ‘ব্যারিকেড চারদিক’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি উদীচীর জাতীয় সম্মেলনে গণসংগীতেও অংশ নেন।
শিশু ও বড়দের নাট্যচর্চা
শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং পথশিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ভাবনা থেকে ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘শিশু থিয়েটার’। তাঁর নির্দেশনায় ‘বাউল বাঁশির সুর’, ‘বাংলা ভাষী ভালো’, ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ ও ‘লেখাপড়া’সহ মোট ১২টি শিশুতোষ নাটক মঞ্চস্থ হয়।
২০০১ সালে বড়দের নিয়মিত নাট্যচর্চা ও মঞ্চনাটক নির্মাণের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নটমঞ্চ’। তাঁর নির্দেশনায় সংগঠনটির ব্যানারে ১৩টি নাটক মঞ্চস্থ হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘কৃপণ’, ‘তামাশা’, ‘বদহজম’, ‘দূরপাল্লা’ এবং ‘ইদানিং তিনি ভদ্রলোক’।
নাট্যচর্চাকে বিনোদনের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করেছেন তিনি। নটমঞ্চের উদ্যোগে জেলার আটটি উপজেলায় ২৫টি পথনাটক প্রদর্শিত হয়েছে। আর্সেনিক ও স্যানিটেশনবিষয়ক পথনাটক চাঁদপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৭ বার মঞ্চায়ন করা হয়। মাদক ও ধূমপানবিরোধী সচেতনতামূলক পথনাটকও প্রদর্শিত হয়েছে।
সামাজিক কাজ ও স্বীকৃতি
নাট্যাঙ্গনের বাইরেও পি এম বিল্লাল বেদে পল্লি, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। শিশুদের চিকিৎসাসেবা সহায়তার উদ্যোগেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। ঠোঁটকাটা, তালুকাটা ও বাঁকা পায়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা এবং সংশোধনমূলক সেবায় সহায়তার মাধ্যমে তিনি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩ সালে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু নাটকের নির্দেশক হিসেবে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। চাঁদপুরের ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন’, ‘উদ্দীপন’ ও ‘প্রতিভা’ সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকেও তিনি সংবর্ধিত হন। তিনি ‘দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন’ এবং ‘নবরূপ মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
পি এম বিল্লাল বলেন, চাঁদপুরে নাট্যচর্চা আরও বিস্তৃত হোক, নতুন প্রজন্ম সংস্কৃতিমনা হয়ে গড়ে উঠুক এবং নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি দূর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত সংস্কৃতি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান তিনি।




