অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তুলপাই-ফতেহপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী শাহ আলমের বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ফোর-ফরটি (৪৪০ ভোল্ট) বিদ্যুৎ লাইন সরানোর জন্য আবেদন করেও প্রায় দেড় বছর ধরে কোনো সমাধান পাননি তার পরিবার। বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন থাকায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। এ কারণে বাড়িতে ভবন বা ঘর নির্মাণও করতে পারছেন না তারা। দ্রুত লাইনটি সরিয়ে রাস্তা সংলগ্ন নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে তুলপাই-ফতেহপুর গ্রামের খন্দকারদের মাছের প্রজেক্টের ওপর থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ে। পরে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কর্তৃপক্ষ খুঁটিটি সরিয়ে উত্তর পাশে রাস্তা সংলগ্ন স্থানে স্থাপন করে। তখন শাহ আলমের বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইনটিও নতুন খুঁটির মাধ্যমে সরিয়ে সংযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শাহ আলমের স্ত্রী শিরিনা বেগমের দাবি, লিখিত আবেদন করলে বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া লাইনটি বিনা খরচে সরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ লাইন স্থানান্তরের জন্য ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা দাবি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এই ব্যয় বহন করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন, আইয়ুব আলী ও আবু তাহেরসহ কয়েকজন জানান, প্রায় ২০ বছর আগে ওই এলাকায় ফোর-ফরটি বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়। খুঁটি রাস্তার পাশে সরানো হলেও শাহ আলমের বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া লাইনের অংশটি সরানো হয়নি। ঝড়-বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে তার ছিঁড়ে গেলে কিংবা খুঁটির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
লাইনটি সরানোর জন্য শিরিনা বেগম ২০২৫ সালের ৪ জুন চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জোনাল ম্যানেজারের কাছে এবং চলতি বছরের ১২ মার্চ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাধিকবার আবেদন করেও এখন পর্যন্ত লাইনটি স্থানান্তর করা হয়নি।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কচুয়া জোনাল অফিসের এজিএম (কম) মো. লুৎফর রহমান বলেন, ফোর-ফরটি বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তরের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সরেজমিনে মাপজোক ও হিসাব-নিকাশ করে এ জন্য সর্বসাকুল্যে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহক নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করলেই নিয়ম অনুযায়ী লাইনটি সরিয়ে দেওয়া হবে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে এবং আগের আশ্বাস অনুযায়ী দ্রুত লাইনটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।




