অনলাইন ডেস্ক: টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে চাঁদপুরে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় গ্রাহকেরা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সম্মেলন কক্ষে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা
সভায় চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ভূঞা জানান, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট ব্যয় সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার আওতায় উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
তিনি জানান, নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে কোনো গ্রাহক সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ তার অতিরিক্ত লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য হবে। হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ বিভাগে বিক্রি করা যাবে। প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রায় ৬০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন হবে। এ কাজে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির সুযোগ
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। কর্মসূচির আওতায় সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ব্যবসা যে জেলায় নিবন্ধিত, সেই জেলায় আবেদন করলে সার্ভিস প্রোভাইডাররা সর্বোচ্চ ৪০ নম্বর পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হওয়া যাবে।
আগ্রহীদের চাঁদপুর নতুন বাজারে অবস্থিত চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সভায় বিশেষ অতিথি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী উদ্যোগটির স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত বিভিন্ন চার্জ কাটার বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
সভায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, চাঁদপুর চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জিএম গোবিন্দ আগরওয়ালা, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জিএম মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরীসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ভূঞা চাঁদপুরের বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।




