অনলাইন ডেস্ক: চৌদ্দ আগস্ট, দুই হাজার ছাব্বিশের ভোরে চাঁদপুর সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঝিরঝির বাতাসে মন ও শরীর শীতল হয়ে আসে। বিজ্ঞান সূত্রে সূর্যোদয়ের সময় ৫টা ৩৩ মিনিট হলেও তখনও পূর্ব দিগন্তে সোনালি রোদ পুরোপুরি ফোটেনি। সেই আবহে ‘সুস্থ দেহ, সুস্থ মন। হাঁটিতে হাঁটিতে দেখিব সাহিত্যের গগন’ ভাবনায় প্রাতর্ভ্রমণে সমবেত হয়ে শুরু হয় ‘চলেন হাঁটি সাহিত্যের পথে’ আয়োজন।
স্নিগ্ধ ভোরের নীরবতায় নদীর ওপর পাখিদের উড়ে চলা, সাদা-নীল মেঘে আঁকা আকাশ ও ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা মিলে তৈরি হয় মনোরম পরিবেশ। হাঁটার পাশাপাশি গল্প, কবিতা, চলমান ঘটনা ও অতীতের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়ে তাঁরা ভোরের প্রকৃতি উপভোগ করেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাঁটার প্রয়োজনীয়তা এবং সুস্থ দেহ ও মনের সঙ্গে লেখকের সৃজনশীলতার সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়।
শহরের যানবাহনের শব্দ এড়িয়ে তাঁরা নীরব পথ, দীঘির পাড়, সরু খাল ও জনবসতির মধ্য দিয়ে হাঁটেন। পথে রাতে পাতা জালে আটকে থাকা মাছ, খোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়া মানুষ, ডাকাতিয়া নদীতে তেলাপিয়া মাছ চাষের খাঁচা এবং সারি করে বাঁধা নৌকা দেখা যায়। পুরুষের পাশাপাশি অল্পসংখ্যক নারীও এতে অংশ নেন।
প্রকৃতির দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণের পাশাপাশি নদীর পাশে গাছের নিচে হালকা জলখাবার ও খোশগল্পের জন্য বিরতি নেওয়া হয়। পরে আবার হাঁটা শুরু হয়। সূর্যের সোনালি আলোয় গাছের সারি, সাঁকো, পল্লির উঁচু-নিচু রাস্তা ও গ্রামীণ জীবনের নানা দৃশ্য ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তোলে।
তাড়াহুড়া না থাকায় হাঁটার পথে নতুন পথ ও নতুন কথামালারও সূচনা হয়। নির্দিষ্ট পথ ভুলে একসময় তাঁরা প্রধান সড়কে পৌঁছান। গ্রুপ ছবির মাধ্যমে হাঁটার সমাপ্তি হয়। দীর্ঘ পথ হাঁটার পর দুধমাঠা পান করে তাঁরা সতেজতা ফিরে পান।
শেষ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যান্ত্রিক যানে ওঠার এক মিনিটের মধ্যে মোবাইল হারানোর সংবাদ পাওয়া যায়। পরে গাড়ি ফিরিয়ে ভুলে রেখে আসা গাছের ডাল থেকে মোবাইলটি পাওয়া যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্যেও সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সমবেদনার প্রকাশ ঘটে।
শেষ গন্তব্যের জিরো পয়েন্টে পৌঁছে চায়ের কাপে উঠে আসে আয়োজনের নানা স্মৃতি। আলোচনায় কিশোর অপরাধ ও প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ, সন্তানদের মোবাইল থেকে বইমুখী করা, শিল্প-অর্থনীতির সংকট, বড়বেলার স্কুলজীবন এবং উচ্চশিক্ষিত বেকারের বিষয় স্থান পায়।




