অনলাইন ডেস্ক: ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। মাঠে খেলাধুলা, গল্প শোনা ও বই পড়ার বদলে অনেক শিশুর শৈশব স্মার্টফোনের পাঁচ ইঞ্চি স্ক্রিনে বন্দি হয়ে পড়ছে। ইউটিউব শর্টস, ফেসবুক রিলস ও ভিডিও গেমের অতিরিক্ত ব্যবহারে চোখের জ্যোতি কমার পাশাপাশি মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিচ্ছে। শিশুদের এই আসক্তি থেকে রক্ষা করে সৃজনশীল ও সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ গড়তে এখনই মোবাইল সরিয়ে তাদের হাতে বই তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বই পড়া শিশুদের মননশীলতা ও কল্পনাশক্তি বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বইয়ের পাতা তাদের নতুন ভাবনার জগতে নিয়ে যায় এবং ধৈর্য, একাগ্রতা ও গভীর মনঃসংযোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বিপরীতে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে সৃজনশীল চিন্তার ক্ষমতা সংকুচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভালো বই নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে, মনের দিগন্ত প্রসারিত করে এবং শিশুদের সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের বইমুখী করার উদ্যোগ শুধু পড়াশোনার মানোন্নয়নের জন্য নয়, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও জরুরি।
অভিভাবকদের ভূমিকা
শিশুরা বড়দের অনুকরণ করে। তাই বাবা-মাকে নিজেদের স্ক্রিনটাইম কমিয়ে সন্তানদের সঙ্গে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ঘুমানোর আগে বা ছুটির সময়ে গ্যাজেট ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গল্প, কবিতা ও রূপকথার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
স্কুল ও সামাজিক পর্যায়ে পাঠাভ্যাস বাড়াতে প্রতিযোগিতা, বইমেলা এবং লাইব্রেরির সুযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।




