অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল থেকে ভালো মানুষ বাছাই করে প্রার্থী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনগণের ভোটে বিএনপির প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখল করে পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করেছে। বিএনপি এ ধরনের নির্বাচন চায় না।
বিএনপির বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি গুপ্তদের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটি পক্ষ টাকা ঢালছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজিসহ সব ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি কাজে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নেতাকর্মীদের মানুষের কাছে গিয়ে সুখে-দুঃখে পাশে থাকার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। সংসদ অধিবেশন চলার সময় ছাড়া বাকি সময়ে সংসদ সদস্যদের এলাকায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কিশোর-তরুণদের মাদক ও জুয়া থেকে রক্ষায় কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে সভাটি আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস বলেন, দলের চেয়ারম্যান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটানা ৪৫ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের কল্যাণে নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে এবং অন্যায়-অনাচারে জড়ানো যাবে না।
সভা শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে হোটেল ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রহমতগঞ্জের পূজামণ্ডপে যাওয়ার পথে কাফনের কাপড় পরা ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এক নারী প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান। পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে দেন।




